বিষয়বস্তুতে চলুন

হোমার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হোমার (গ্রিক Ὅμηρος Homēros)

হোমারের একটি কাল্পনিক মূর্তি, হেলেনীয় যুগে নির্মিত, ব্রিটিশ মিউজিয়াম।
সময় খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দী
প্রভাবিত হয়েছেন আবেগবিহ্বল মৌখিক কাব্য
প্রভাবিত করেছেন ক্ল্যাসিক (পাশ্চাত্য শিল্প ও দর্শন)

হোমার (প্রাচীন গ্রিক: Ὅμηρος, হোমারোস; সম্ভবত জন্ম খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর দিকে) ছিলেন একজন প্রাচীন গ্রিক কবি, যাঁকে ইলিয়াড ও ওডিসি নামক দুটি মহাকাব্যের রচয়িতা হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই দুটি রচনা প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও তাঁর জীবন এবং তিনি সত্যিই এই কাব্যদুটি রচনা করেছিলেন কিনা তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে, প্রাচীন গ্রিক সমাজে হোমার অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন এবং তাঁকে ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী লেখক হিসেবে গণ্য করা হয়।[১]

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

[সম্পাদনা]

ইলিয়াড মহাকাব্যটি ট্রয়ের যুদ্ধের শেষ বছরে রাজা আগামেমনন ও যোদ্ধা অ্যাকিলিসের মধ্যকার বিবাদকে কেন্দ্র করে রচিত। ওডিসি বর্ণনা করে ট্রয় পতনের পর ইথাকার রাজা ওডিসিউসের দশ বছরব্যাপী স্বদেশযাত্রার কাহিনি। এই মহাকাব্যদ্বয়ে মানুষের সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে, বিশেষত ওডিসিতে, যেখানে ওডিসিউস দেবতাদের শাস্তি সহ্য করেও অবিচল থাকেন। কাব্যদুটি রচিত হয়েছে হোমারীয় গ্রিক ভাষায়, যা আয়োনীয় গ্রিক ও এওলীয় গ্রিক উপভাষার মিশ্রণে গঠিত একটি সাহিত্যিক ভাষা, যেখানে পূর্ব আয়োনীয় প্রভাব প্রধান। অধিকাংশ গবেষক মনে করেন এই কাব্যগুলি মূলত মৌখিক পরম্পরায় প্রচলিত ছিল।

হোমারীয় কাব্যসমূহ প্রাচীন গ্রিক সংস্কৃতি ও শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছিল, যা বীরত্ব, গৌরব ও সম্মানের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে। প্লেটোর মতে হোমার সহজ কথায় "গ্রিসকে শিক্ষিত করেছিলেন"। দান্তে আলিগিয়েরির ডিভাইন কমেডিতে ভার্জিল হোমারকে "সার্বভৌম কবি" বলে উল্লেখ করেছেন; আর ইলিয়াডের অনুবাদের ভূমিকায় আলেকজান্ডার পোপ স্বীকার করেছেন যে হোমারকে চিরকালই "সর্বশ্রেষ্ঠ কবি" গণ্য করা হয়েছে।

জীবন ও পরিচয়

[সম্পাদনা]

"হোমার" কে ছিলেন, কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ইলিয়াড ও ওডিসি রচিত হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক আজও অব্যাহত। পণ্ডিতরা সাধারণত এই দুটি কাব্যকে ভিন্ন ভিন্ন রচয়িতার রচনা বলে মনে করেন। ধারণা করা হয়, কাব্যদুটি খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগ বা সপ্তম শতাব্দীর প্রথমভাগে রচিত হয়েছিল। প্রাচীনকালে হোমারের জীবন সম্পর্কে বহু বিবরণ প্রচলিত ছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত মতটি হলো তিনি ছিলেন আয়োনিয়া অঞ্চলের একজন অন্ধ বার্ড, যা বর্তমান তুরস্কের পশ্চিম উপকূলের মধ্যাংশ এবং গ্রিক দ্বীপ খিওস ও সামোস অন্তর্ভুক্ত করে। আধুনিক পণ্ডিতরা এই বিবরণগুলিকে কিংবদন্তি বলে গণ্য করেন।[২]

"হোমার"-এর পরিচয় একটি রহস্য, এবং পণ্ডিতরা সাধারণত ইলিয়াড ও ওডিসির পেছনে একজন একক রচয়িতার প্রাচীন ধারণাকে একটি কাল্পনিক বর্ণনা হিসেবে বিবেচনা করেন। প্রাচীনকালে হোমারের অজ্ঞাত পরিচয়ের কারণে তাঁর জীবন সম্পর্কে ক্রমশ পৌরাণিক বিবরণ তৈরি হতে থাকে, এবং সেসময় বিশ্বাস করা হতো যে তিনি ট্রয়ের যুদ্ধের পরে জীবিত ছিলেন। হোমারের সবচেয়ে পরিচিত দুটি প্রাচীন জীবনীগ্রন্থ হলো সিউডো-হেরোডোটাসের হোমারের জীবন এবং হোমার ও হেসিওদের প্রতিযোগিতা।[৩]

হোমারের প্রথম পরোক্ষ উল্লেখ পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে আর্কিলোকাস, আলকমান, টার্টায়াস এবং কালিনাস-এর রচনায়।[১] অধিকাংশ প্রাচীন জীবনীতে হোমারকে অন্ধ হিসেবে দেখানো হয়েছে; আবার বাইজান্টাইন বিশ্বকোষ সুদা-তে তাঁকে মিউজ, অ্যাপোলো, অরফিউস, থামিরিস, টেলেমাকাস বা মুসায়ুস-এর বংশধর বলে বর্ণনা করা হয়েছে। কবি পিন্দারকে উদ্ধৃত করে বলা হয় যে হোমার খিওস ও স্মির্না থেকে এসেছিলেন, যা পঞ্চম শতাব্দীর অন্যান্য লেখকরাও উল্লেখ করেছেন। গ্রিক ইতিহাসবিদ ইফোরাস-এর মতে হোমার বার্ড ফেমিয়াস-এর কাছে কাব্যচর্চা শিখেছিলেন এবং কিউমিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বেশিরভাগ বিবরণ অনুযায়ী তাঁর মৃত্যুস্থান ছিল আইওস দ্বীপ।[৩]

হোমারীয় প্রশ্ন ও পাণ্ডিত্যচর্চা

[সম্পাদনা]

হোমার সংক্রান্ত গবেষণা পণ্ডিত্যচর্চার প্রাচীনতম বিষয়গুলির একটি, যার সূচনা প্রাচীনকাল থেকেই।[৪] হোমারের ওপর প্রাচীনতম মন্তব্যগুলি তাঁর দেবতাদের চিত্রায়ণ নিয়ে, যাকে কবি জেনোফেনিস-এর মতো সমালোচকরা অনৈতিক বলে নিন্দা করেছিলেন। ইলিয়াড ও ওডিসি প্রাচীন গ্রিক ও হেলেনীয় সংস্কৃতিতে ব্যাপকভাবে বিদ্যালয়ের পাঠ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতো।[৪]

১৪৮৮ সালে গ্রিক পণ্ডিত দিমিত্রিওস খালকোকোন্দিলিস ফ্লোরেন্স শহরে হোমারীয় কাব্যের প্রথম মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশ করেন।[৪] ১৬৬৪ সালে ফরাসি পণ্ডিত ফ্রঁসোয়া এদলাঁ হোমারকে জ্ঞানের প্রতিরূপ হিসেবে ব্যাপক প্রশংসার বিপরীতে তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন যে হোমার কখনো অস্তিত্বশীল ছিলেন না এবং কাব্যগুলি অদক্ষ সম্পাদকদের দ্বারা বিচ্ছিন্ন মৌখিক গানের সংকলন মাত্র। পঞ্চাশ বছর পর ইংরেজ পণ্ডিত রিচার্ড বেন্টলি সিদ্ধান্তে আসেন যে হোমার প্রকৃতপক্ষে অস্তিত্বশীল ছিলেন, তবে তিনি ছিলেন প্রাগৈতিহাসিক যুগের এক অস্পষ্ট মৌখিক কবি।[৫]

১৭৯৫ সালে প্রকাশিত ফ্রিডরিখ আউগুস্ট ভোল্ফ-এর প্রোলেগোমেনা আদ হোমেরুম গ্রন্থে যুক্তি দেওয়া হয় যে ইলিয়াড ও ওডিসির অনেকাংশ মূলত খ্রিস্টপূর্ব দশম শতাব্দীতে সংক্ষিপ্ত, পৃথক মৌখিক গান হিসেবে রচিত হয়েছিল, যা প্রায় চারশ বছর মৌখিক পরম্পরায় প্রবাহিত হওয়ার পর ষষ্ঠ শতাব্দীতে সাক্ষর লেখকদের দ্বারা একত্রিত হয়েছিল।[৫] এই মতবাদকে কেন্দ্র করেই উনিশ শতকে "হোমারীয় প্রশ্ন" নামক দীর্ঘস্থায়ী পাণ্ডিত্য বিতর্কের সূচনা হয়।

১৯২৮ সালের দিকে মিলম্যান প্যারি ও অ্যালবার্ট লর্ড বলকান অঞ্চলের লোককবিদের নিয়ে গবেষণা করে "মৌখিক-সূত্রবদ্ধ তত্ত্ব" (Oral-Formulaic Theory) প্রবর্তন করেন, যা অনুযায়ী হোমারীয় কাব্যসমূহ পরম্পরাগত বিশেষণ ও কাব্যিক সূত্রের ওপর নির্ভর করে তাৎক্ষণিক মৌখিক পরিবেশনার মাধ্যমে রচিত হয়েছিল। এই তত্ত্ব ব্যাপক পণ্ডিত-স্বীকৃতি লাভ করে এবং হোমারীয় কাব্যের প্রাচীন ভাষা, বিশেষণের পুনরাবৃত্তিসহ পূর্বে দুর্বোধ্য বহু বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে।[৬]

অধিকাংশ সমকালীন পণ্ডিত একমত যে ইলিয়াড ও ওডিসি একই রচয়িতার লেখা নয়, কেননা এই দুটির মধ্যে বর্ণনাশৈলী, ধর্মতত্ত্ব, নীতিবোধ, শব্দভাণ্ডার ও ভৌগোলিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বহু পার্থক্য রয়েছে।[৫] তবে প্রায় সব পণ্ডিতই একমত যে প্রতিটি কাব্য মূলত একজন রচয়িতার দ্বারাই রচিত হয়েছিল, যিনি প্রাচীন মৌখিক পরম্পরার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিলেন।

রচনাকাল

[সম্পাদনা]

হোমারীয় কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সমকালীন পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত। এক প্রান্তে রিচার্ড জাঙ্কো ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে উভয় কাব্যের রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দী বলে প্রস্তাব করেছেন। ব্যারি বি. পাওয়েল ইলিয়াড ও ওডিসির রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ থেকে ৭৫০ সালের মধ্যে নির্ধারণ করেছেন, যার ভিত্তি হেরোডোটাস-এর বিবৃতি, যিনি বলেছিলেন হোমার তাঁর নিজের সময়ের চারশ বছর আগে জীবিত ছিলেন।[৭]

অন্যদিকে মার্টিন লিচফিল্ড ওয়েস্ট যুক্তি দিয়েছেন যে ইলিয়াডে হেসিওদ-এর কাব্যের প্রতিধ্বনি রয়েছে এবং তা খ্রিস্টপূর্ব ৬৬০-৬৫০ সালের দিকে রচিত হয়েছিল, ওডিসি তার এক প্রজন্ম পরে।[৫] তিনি ইলিয়াডের কিছু অংশে প্রাচীন নিকট প্রাচ্যের ঐতিহাসিক ঘটনার জ্ঞানের ছাপ দেখতে পান, যেমন খ্রিস্টপূর্ব ৬৮৯ সালে সেনাকেরিব কর্তৃক ব্যাবিলন ধ্বংস এবং খ্রিস্টপূর্ব ৬৬৪/৬৬৩ সালে আশুরবানিপাল কর্তৃক থিবিসের ধ্বংস।

ভাষা ও কাব্যশৈলী

[সম্পাদনা]

হোমারীয় কাব্যসমূহ একটি কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষায় রচিত, যা শুধুমাত্র মহাকাব্যিক হেক্সামিটার কবিতায় ব্যবহৃত হতো। হোমারীয় গ্রিক একাধিক আঞ্চলিক গ্রিক উপভাষা ও যুগের বৈশিষ্ট্য বহন করে, তবে মূলত আয়োনীয় গ্রিকের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, যা হোমারের আয়োনিয়া থেকে আগমনের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ থেকে জানা যায় যে ইলিয়াড ওডিসির চেয়ে কিছুটা আগে রচিত হয়েছিল।[৮]

কাব্যগুলি অমিলযুক্ত ড্যাক্টিলিক হেক্সামিটারে রচিত। হোমার প্রায়ই নির্দিষ্ট বাক্যাংশ ব্যবহার করেন, যেমন বিশেষণ ("ধূর্ত ওডিসিউস", "গোলাপি-অঙ্গুলি ঊষা", "পেঁচা-চোখা অ্যাথিনা"), হোমারীয় সূত্রবাক্য, উপমা, দৃশ্যপ্রকার এবং পুনরাবৃত্তিমূলক গঠনরীতি। এই অভ্যাসগুলি তাৎক্ষণিক পরিবেশনাকারী বার্ডের জন্য সহায়ক ছিল এবং মৌখিক কাব্যের বৈশিষ্ট্যসূচক।[৯]

উভয় হোমারীয় কাব্যই মিউজ-দের প্রতি আহ্বান দিয়ে শুরু হয়। ইলিয়াডে কবি মিউজের কাছে "অ্যাকিলিসের ক্রোধ" গাওয়ার অনুরোধ জানান, আর ওডিসিতে তিনি "বহু পথের মানুষ"-এর কথা বলতে বলেন। পরবর্তীকালে ভার্জিল তাঁর ইনিড-এ একই ধরনের সূচনা ব্যবহার করেছিলেন।[১০]

পাঠ্যরূপ ও সংক্রমণ

[সম্পাদনা]

হোমারীয় কাব্যসমূহ মৌখিক পরম্পরা থেকে খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যে কোনো এক সময়ে লিখিত রূপ লাভ করে। প্রাচীনকালে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল যে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষভাগে পিসিস্ট্রাটাস (মৃত্যু ৫২৮/৫২৭ খ্রিস্টপূর্ব) এথেন্সে হোমারীয় কাব্যসমূহ সংগ্রহ ও সংগঠিত করেছিলেন, যাকে পরবর্তী পণ্ডিতরা "পিসিস্ট্রাটীয় সংশোধন" নামে অভিহিত করেছেন।[৪] আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পর জেনোদোতাস, বাইজেন্টিয়ামের অ্যারিস্টোফেনিস এবং বিশেষত সামোথ্রেসের অ্যারিস্টার্কাস-এর মতো হোমারীয় পণ্ডিতরা একটি প্রমিত পাঠ্যরূপ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।[১১]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Kirk, Geoffrey S. (2025) [1998]. "Homer". Encyclopædia Britannica.
  2. ↑ Dunn, Daisy (22 January 2020). "Who was Homer?". The British Museum.
  3. 1 2 Lefkowitz, Mary R. (2013). The Lives of the Greek Poets. A & C Black. pp. 14–30. আইএসবিএন 978-1-4725-0307-7.
  4. 1 2 3 4 Lamberton, Robert (2010). "Homer". In Grafton, Anthony; Most, Glenn W.; Settis, Salvatore (eds.). The Classical Tradition. Belknap Press. pp. 449–452. আইএসবিএন 978-0-674-03572-0.
  5. 1 2 3 4 West, Martin Litchfield (December 2011). "The Homeric Question Today". Proceedings of the American Philosophical Society. 155 (4): 383–393.
  6. ↑ Taplin, Oliver (1986). "Homer". In Boardman, John; Griffin, Jasper; Murray, Oswyn (eds.). The Oxford History of the Classical World. Oxford University Press. pp. 50–77.
  7. ↑ Powell, Barry B. (1996). Homer and the Origins of the Greek Alphabet. Cambridge University Press. pp. 217–222.
  8. ↑ Bakker, Egbert J. (2010). A Companion to the Ancient Greek Language. John Wiley & Sons. p. 401.
  9. ↑ Edwards, Mark W. "Style". In Finkelberg, Margalit, ed. (2012). The Homer Encyclopedia. Wiley.
  10. ↑ Adler, Eve (2003). Vergil's Empire: Political Thought in the Aeneid. Rowman & Littlefield. p. 4.
  11. ↑ Haslam, Michael. "Text and Transmission". In Finkelberg, Margalit, ed. (2012). The Homer Encyclopedia. Wiley.