সাম্যবাদ-বিরোধী

| সাম্যবাদ |
|---|
| সিরিজের অংশ |
|
|
সাম্যবাদ-বিরোধী হলো রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক বিরোধিতা, যা সাম্যবাদী বিশ্বাস, গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। সংগঠিত সাম্যবাদ বিরোধীতার সূচনা ঘটে ১৯১৭ সালের রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লবের পর, এবং তা বৈশ্বিক মাত্রায় পৌঁছে যায় স্নায়ুযুদ্ধের সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়। সাম্যবাদ বিরোধী মনোভাব বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী, শিল্প ও সাহিত্যেও প্রকাশ পেয়েছে। এটি বহু আন্দোলন এবং রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ হয়ে উঠেছে—অ্যানার্কিজম, সেন্ট্রিজম, কনজারভেটিজম, ফ্যাসিবাদ, লিবারালিজম, ন্যাশনালিজম, সোশ্যাল ডেমোক্রেসি, সোশ্যালিজম, লেফটিজম ও লিবারটারিয়ানিজমসহ এমনকি বিভিন্ন বৃহত্তর আন্দোলনেও, যারা সাম্যবাদী শাসনের বিরোধিতা করেছে।
সাম্যবাদ বিরোধীতার জন্য প্রথম যে সংগঠন বিশেষভাবে গঠিত হয়েছিল তা হলো রাশিয়ার "হোয়াইট মুভমেন্ট"। তারা ১৯১৮ সালে শুরু হওয়া রাশিয়ান গৃহযুদ্ধে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বলশেভিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। হোয়াইট মুভমেন্টকে সামরিক সহায়তা দেয় একাধিক মিত্র বিদেশি সরকার, যা প্রথমবারের মতো সাম্যবাদ বিরোধীতাকে সরকারী নীতির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে। তবুও, রেড আর্মি হোয়াইট মুভমেন্টকে পরাজিত করে এবং ১৯২২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্তিত্বকালে সাম্যবাদ বিরোধীতা বিশ্বজুড়ে বহু রাজনৈতিক আন্দোলন ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্যবাদ বিরোধিতা বিশেষভাবে সামনে আসে ১৯১৯–১৯২০ সালের প্রথম রেড স্কেয়ার চলাকালে। ১৯২০ এবং ১৯৩০-এর দশকে আমেরিকা ও ইউরোপে সাম্যবাদের বিরোধিতা প্রচার করে রক্ষণশীল, রাজতান্ত্রিক, ফ্যাসিস্ট, উদারপন্থী ও সামাজিক গণতান্ত্রিকরা। ১৯৩০-এর দশকে ফ্যাসিস্ট সরকারগুলো সাম্যবাদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উত্থিত হয়। জার্মানিতে উদারপন্থী ও সামাজিক গণতান্ত্রিকরা "আয়রন ফ্রন্ট" গঠন করে, যা একসাথে সাম্যবাদী, নাৎসি ফ্যাসিস্ট এবং প্রতিশোধপরায়ণ রক্ষণশীল রাজতন্ত্রীদের বিরোধিতা করেছিল। ১৯৩৬ সালে নাৎসি জার্মানি ও সাম্রাজ্যবাদী জাপানের মধ্যে প্রথমে "অ্যান্টি-কমিন্টার্ন প্যাক্ট" স্বাক্ষরিত হয়, যা ছিল একটি সাম্যবাদ বিরোধী জোট। এশিয়ায় এই সময়ে সাম্রাজ্যবাদী জাপান এবং কুওমিনতাং (চীনা জাতীয়তাবাদী দল) ছিল সাম্যবাদের প্রধান বিরোধী শক্তি।
১৯৪৫ সালের মধ্যে, সাম্যবাদী সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধরত প্রধান মিত্র দেশগুলোর একটি ছিল।[১] যুদ্ধ শেষ হওয়ার কিছু পরেই, মার্কসবাদ–লেনিনবাদী সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং উদারপন্থী পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করে। এ সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার "নিয়ন্ত্রণ নীতি"র অংশ হিসেবে বৈশ্বিক সাম্যবাদ বিরোধিতাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়। সাম্যবাদী ও সাম্যবাদ বিরোধীদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সামরিক সংঘাত ঘটে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চীনা গৃহযুদ্ধ, কোরিয়ান যুদ্ধ, প্রথম ইন্দোচীন যুদ্ধ, মালয়ান জরুরি অবস্থা, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, সোভিয়েত–আফগান যুদ্ধ এবং "অপারেশন কন্ডর"। ১৯৪৯ সালে ন্যাটো একটি সাম্যবাদ বিরোধী সামরিক জোট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্নায়ুযুদ্ধকাল জুড়ে তা অব্যাহত থাকে।
১৯৮৯ সালের বিপ্লব এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বের বেশিরভাগ সাম্যবাদী সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং স্নায়ুযুদ্ধ যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবুও, সাম্যবাদ বিরোধিতা এখনো অনেক সমসাময়িক রাজনৈতিক আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধিক উপাদান হিসেবে বিদ্যমান। সংগঠিত সাম্যবাদ বিরোধী আন্দোলন এখনো গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এবং অন্যান্য সাম্যবাদী রাষ্ট্রের বিরোধিতায় সক্রিয়।
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Encyclopædia Britannica।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)