বিষয়বস্তুতে চলুন

বাংলা সালতানাত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সালতানাতে বাঙ্গালা

سَلْطَنَة اَلْبَنْغالِيَّة (সল্তনাত আল বন্গালীয়া)
(আরবি)
শাহী বাঙ্গালাহ্
(বাংলা)
سلطنتِ بنگاله (সল্তনাত-ই-বন্গালহ্)
(ফারসি)
১৩৩৮–১৩৫২
(স্বাধীন সোনারগাঁও এবং লখনৌতি পর্ব)
১৩৫২–১৫৩৯
১৫৫৪–১৫৭৬
১৫৭৬–১৬১১
(বারো-ভূঁইয়াদের প্রতিরোধ)
কাটালান আটলাস উৎস থেকে প্রাপ্ত পতাকা এবং বাংলা সালতানাতের হোসেন শাহী রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আলম।[১][ক]
বাংলার সুলতানের প্রতীক/ব্যাজ[২][৩]
হোসেন শাহী শাসনামলে বাংলা সলতনতের ব্যাপ্তি
হোসেন শাহী শাসনামলে বাংলা সলতনতের ব্যাপ্তি
অবস্থাসালতানাত
রাজধানীসোনারগাঁও
(১৩৩৮–১৩৫২)
পান্ডুয়া
(১৩৫২–১৩৯০)
সোনারগাঁও
(১৩৯০–১৪২০)
গৌড়
(১৪২০–১৫৬৫)
তাণ্ডা
(১৫৬৫–১৫৭৬)
সোনারগাঁও
(১৫৭৬–১৬১১)
প্রচলিত ভাষা
ধর্ম
সরকারপূর্ণ রাজতন্ত্র
সুলতান / শাসক 
• (প্রথম স্বাধীন) ১৩৩৮–১৩৪৯, (প্রথম একক)⁠ ১৩৫২–১৩৫৮
(⁠প্রথম স্বাধীন) ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ, (প্রথম একক) ⁠শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
• (শেষ সুলতান) ১৫৭২–১৫৭৬, (শেষ শাসক) ১৫৯৯–১৬১১
(শেষ সুলতান) দাউদ খান কররানী, (শেষ শাসক) মাসনদ-ই-আলা মুসা খাঁ
ইতিহাস 
• একত্রীকরণ
১৩৫২
১৩৫৩–১৩৫৯
• রাজা গণেশের বিদ্রোহ
১৪১৪
১৪১৫–১৪২০
১৪২৯–১৪৩০
১৫১২–১৫১৬
• সুরি আক্রমণ
১৫৩৯
• পুনঃপ্রতিষ্ঠা
১৫৫৪
১৫৭২–১৫৭৬
১৫৭৬
• বারো ভূঁইয়ার প্রতিরোধ
১৫৭৬-১৬১১
মুদ্রাটঙ্কা
পূর্বসূরী
উত্তরসূরী
দিল্লি সলতনত
সোনারগাঁও সলতনত
সাতগাঁও সলতনত
জৌনপুর সলতনত
মোগল সাম্রাজ্য
সুরি সাম্রাজ্য
বর্তমানে যার অংশ বাংলাদেশ
 ভারত (পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়, সিক্কিম, মিজোরাম)
 মিয়ানমার (আরাকান)
   নেপাল (মেচী অঞ্চল)
বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ। বর্তমানে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান ঘোষিত হয়েছে।
গৌড়ের প্রাচীন প্রবেশদ্বার
সোনারগাঁওয়ে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহর মাজার।
জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহর রৌপ্য টঙ্কা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ
গৌড়ের ফিরোজ মিনার।

বাংলা সালতানাত, শাহী বাংলা বা সুলতানি বাংলা (ফার্সি: سلطنت بنگاله، شاهی بنگاله، سلطانی بنگاله, প্রতিবর্ণীকৃত: Salṭanat-e-Baṅgālah, Shāhī Baṅgālah, Sulṭānī Baṅgālah)[৪] ছিল ১৪শ থেকে ১৬শ শতাব্দীর মাঝামাঝি বঙ্গ অঞ্চলে স্থিত একটি শেষ মধ্যযুগীয় সালতানাত।[৫][৬][৭][৮] বাংলা সালতানাতকে 'শাহী বাঙ্গালা' নামেও অভিহিত করা হতো। গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে এটি ছিল প্রভাবশালী শক্তি। সালতানাতের রাজ্য জুড়ে ছিল অসংখ্য টাকশাল। ভারতীয় উপমহাদেশে সামন্ত রাজ্য গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলা সালতানাত তাদের অঞ্চল বিস্তৃত করেছিল। দক্ষিণ-পশ্চিমে ওড়িশা, দক্ষিণ-পূর্বে আরাকান ও পূর্বে ত্রিপুরা পর্যন্ত তাদের প্রভাব ছিল।

হোসেন শাহী বংশের শাসনামলে বাংলা সালতানাত নিজের শক্তির শীর্ষে পৌঁছায়। সুলতানি আমলে নেপাল থেকে শুরু করে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা (বর্তমানের আসাম) আর জৌনপুর ও বারাণসী পর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। বঙ্গসহ এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ বানিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে তখন বাংলা সুপরিচিত ছিল। সুরি সাম্রাজ্যের হস্তক্ষেপের পর থেকে ক্ষয়িষ্ণু হতে শুরু করে বাংলা সালতানাতের শক্তি। মুঘল বিজয় ও ভেঙে পড়ার মাধ্যমে অবশেষে সুলতানি শাসনের সমাপ্তি ঘটে। বাংলা সালতানাত ছিল একটি সুন্নি মুসলিম শাসিত রাজ্য যেখানে বাঙালি, তুর্কী-পারস্য, আফগান এবং আবিসিনিয়ান অভিজাত শ্রেণীর প্রভাব লক্ষ্য করা যেত। সর্বাধিক পরিচিত বংশগুলির মধ্যে ছিল ইলিয়াস শাহী, গণেশ বংশ এবং হোসেন শাহী বংশ। সালতানাতের আমলে ধর্মীয় বৈচিত্র্য ছিল অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অমুসলিম সম্প্রদায়গুলোও শান্তি-সহাবস্থানের অধিকারী ছিল। ফারসি ভাষা রাষ্ট্রীয়, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হত। বাংলা ভাষা প্রথমবারের মতো সুলতানি আমলেই দরবারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বাংলা সালতানাতের যেসব শহর টাকশালের কাজে ব্যবহৃত হত সেগুলোকে 'মিন্ট টাউন' বলা হতো। এখানেই ঐতিহাসিক 'টাকা'র প্রচলন ঘটে। মধ্যযুগীয় স্থাপত্যের সৌন্দর্যে সজ্জিত ছিল এই শহরগুলো। ষোড়শ শতাব্দীতে, রাজধানী শহর গৌড় ছিল পৃথিবীর পঞ্চম জনবহুল নগরী। অর্থনৈতিক কেন্দ্র সোনারগাঁও, মসজিদের শহর বাগেরহাট এবং সমুদ্র বন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্র চট্টগ্রামও ছিল বাংলা সালতানাতের গুরুত্বপূর্ণ শহর। সামুদ্রিক ও স্থলপথের মাধ্যমে এশিয়া, আফ্রিকা, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরোপের সাথে বাংলা সালতানাত সুসম্পর্ক রাখত। উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে বঙ্গোপসাগরের তীরে বাংলা সালতানাত গড়ে ওঠে। সারা বিশ্ব থেকে তখন বণিক ও অভিবাসীরা বাংলায় আসত। মালদ্বীপ, চীন, মালেকা অঞ্চলের সাথেও বাঙালি জাহাজ ও ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক ছিল।

সমসাময়িক ইউরোপীয় এবং চৈনিক পরিব্রাজকদের বর্ণনায় বাংলাকে সম্পদশালী রাজ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রচুর পণ্য সম্ভার এবং বৈচিত্রের কারণে তখন বাংলাকে 'ব্যবসা-বাণিজ্যের শ্রেষ্ঠ দেশ' হিসেবে বর্ণনা করা হতো। স্থাপত্য ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবেও বাংলা সালতানাত চিরস্মরণীয়। এসকল স্থাপত্যে বিদেশি প্রভাবের পাশাপাশি একটি স্বতন্ত্র বাঙালি রীতিও লক্ষণীয়। বাংলার ইতিহাসে স্বাধীন মুসলিম শাসিত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলা সালতানাত ছিল সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে প্রতিপত্তিশালী।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

পটভূমি (ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দী)

[সম্পাদনা]

১২০০-এর দশকে বাখতিয়ার খলজীর নেতৃত্বে গৌড় বিজয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাংলাকে দিল্লি সালতানাতের অন্তর্ভুক্ত করা শুরু হয়। মুহাম্মদ ঘোরির রাজত্বকালে ১২০২ থেকে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এ বিজয় সংঘটিত হয়েছিল। এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশে তুর্কি-আফগানদের উত্থানের সূচনা। বাখতিয়ার খলজী ঘুরি শাসক মুহাম্মদ ঘোরির একজন সেনাপতি ছিলেন। তিনি বাংলায় খলজি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ১২০৬ সালে খলজি বংশেরই সেনানায়ক আলী মর্দানের হাতে বাখতিয়ার খলজির মৃত্যু হলে বাংলার শাসনভার খলজি গোত্রের বিভিন্ন মালিকের কাঁধে চলে আসে (আলি মর্দান নিজেই খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ক্ষমতা দখল করেন)। সেই সময় দিল্লির সুলতান ইলতুতমিশ বাংলাকে দিল্লির প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তার ছেলে নাসিরউদ্দিন মাহমুদকে বাংলা পাঠান। ১২২৫ খ্রিস্টাব্দে ইলতুতমিশ বাংলাকে দিল্লির একটি প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। দিল্লি সালতানাত নিয়োজিত গভর্নরদের মাধ্যমে বাংলা শাসনের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলার বিস্তর ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে তাতে সফলতা মেলেনি। বরং উচ্চাকাঙ্ক্ষী গভর্নররা বিদ্রোহ করে স্বাধীন শাসকের মর্যাদা নিয়ে বাংলা শাসন করেছেন। দিল্লি সালতানাতের সেনাবাহিনীর হাতে তাদের দমন করা হলেও এসব বিদ্রোহীদের মধ্যে যুজবক শাহ (১২৫৭), তুগরল খান (১২৭১-১২৮২) ও শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ (১৩০১-১৩২২) এর মতো দক্ষ শাসকদের উপস্থিতি ছিল। বিশেষ করে শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ সিলেট জয় করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলায় শক্তিশালী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। ১৩২৫ সালে দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক পুরো বাংলা প্রদেশকে পুনঃসংগঠিত করে তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করেন - সোনারগাঁও (পূর্ব বাংলা), গৌড় (উত্তর বাংলা) এবং সাতগাঁও (দক্ষিণ বাংলা)। কিন্তু এই ব্যবস্থাও টেকেনি। ১৩৩৮ সালের মধ্যে এই তিনটি অঞ্চলের স্বাধীন সুলতানের উত্থান ঘটে - সোনারগাঁওয়ে ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ, গৌড়ে আলাউদ্দিন আলী শাহ এবং সাতগাঁওয়ে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। ১৩৪০ সালে ফখরুদ্দিন চট্টগ্রাম দখল করেন এবং ১৩৪৯ সালে তার পুত্র ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহ ক্ষমতায় আসেন। অন্যদিকে, শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ আলাউদ্দিন আলী শাহকে পরাজিত করে গৌড়ের নিয়ন্ত্রণ নেন, এরপর সোনারগাঁওয়ের ইখতিয়ারউদ্দিনকেও হারিয়ে দেন। ১৩৫২ সালের মধ্যে বাঙালি সুলতানদের মধ্যে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বা ইলিয়াস শাহ বিজয়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৩৩৮ সালে সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ দিল্লির শাসন থেকে মুক্ত হয়ে সোনারগাঁওয়ে স্বাধীন সুলতানি আমলের পত্তন করেন, যা বাংলার স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করে। পরবর্তীতে, ১৩৫২ সালে সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করে অখণ্ড 'বাংলা সালতানাত' বা 'শাহী বাঙ্গালাহ' প্রতিষ্ঠা করেন। তাই ইতিহাসভেদে এই দুজনকে বাংলার সুলতানি আমলের প্রধান প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রারম্ভিক বাংলা সালতানাত (১৪শ ও ১৫শ শতাব্দী)

[সম্পাদনা]
সুলতানি আমলের প্রথম রাজধানী পাণ্ডুয়ায় অবস্থিত উপমহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ আদিনা মসজিদের ধ্বংসাবশেষ।
সোনারগাঁও-এ অবস্থিত তৃতীয় ইলিয়াস শাহী সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের ১৪শ শতাব্দীর সমাধি।

ইলিয়াস শাহ পাণ্ডুয়াতে তার রাজধানী স্থাপন করেন। তিনি গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর ব-দ্বীপ একত্রিত করে বাংলা সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পূর্ব উপমহাদেশের বেশ কয়েকটি নগর রাষ্ট্র ও রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও আক্রমণ চালান। তিনি পূর্ববঙ্গ ও উত্তর বিহার জয় করেন। ইলিয়াস শাহ নেপালে প্রথম মুসলিম সেনাবাহিনী নিয়ে যান, কাঠমান্ডু উপত্যকায় অভিযান চালান এবং প্রচুর ধনরত্ন নিয়েবাংলায় ফিরে আসেন। তার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল পূর্বে আসাম থেকে পশ্চিমে বারাণসী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে ১৩৫৩ সালে একদলা দুর্গের অবরোধের সময় বাংলা-দিল্লি সালতানাত যুদ্ধে দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের কাছে ইলিয়াস শাহ পরাজিত হন। বাংলা দিল্লির সুলতানকে কর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইলিয়াস শাহ অনেক জয় করা অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারালেও বাংলার শাসনভার নিজের দখলে রাখতে সক্ষম হন।

ইলিয়াস শাহ ইলিয়াস শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন, যা দেড়শ বছর ধরে বাংলা শাসন করে। তার পুত্র এবং উত্তরসূরি সিকান্দার শাহ ১৩৫৯ সালে একদলা দুর্গের দ্বিতীয় অবরোধের সময় দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলককে পরাজিত করেন। দিল্লি ও বাংলার মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে দিল্লি বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করে। ফিরোজ শাহ তুঘলক সিকান্দার শাহকে আনুমানিক ৮০,০০০ টাকার একটি সোনার মুকুট উপহার দেন। এই শান্তিচুক্তি দুই শতাব্দীর জন্য বাংলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

সিকান্দার শাহের রাজত্ব তিন দশক স্থায়ী হয়। তার রাজত্বকালে আদিনা মসজিদ নির্মিত হয়। মসজিদের নকশা দামেস্কের বিখ্যাত মসজিদের আদলে করা হয় - যে রীতিটি নতুন অঞ্চলে ইসলাম প্রবর্তনের সময় অনুসরণ করা হত। এই সময়ের মধ্যে অধিকাংশ কৃষিজমি হিন্দু জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা মুসলিম তালুকদারদের সাথে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

বাংলা মধ্যযুগীয় ইসলামিক রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পূর্ব সীমান্ত রাজ্যে পরিণত হয়। ১৪শ শতাব্দীতে ইসলামী রাজ্যসমূহ পশ্চিমে মুসলিম স্পেন থেকে পূর্বে ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই রাজ্যগুলোতে বহুজাতিক অভিজাত শ্রেণীর অস্তিত্ব ছিল। স্থানীয় ভাষার পাশাপাশি ফারসি ও আরবি ব্যবহৃত হত। ফারসি কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হত। ধর্মযাজকদের জন্য ধর্মীয় ভাষা ছিল আরবি। বাংলায়, মুসলিম শাসনের অধীনে বাংলা ভাষা একটি দরবারী ভাষায় পরিণত হয় এবং প্রধান কথ্য ভাষা ছিল।

তৃতীয় সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ বিদেশে বাংলার প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। তিনি মিং চীনে দূতাবাস পাঠাতে শুরু করেন, যা তার উত্তরসূরিদের রাজত্বকালে একটি প্রথা হিসাবে অব্যাহত থাকে। গিয়াসউদ্দিন আরবেও নির্মাণ প্রকল্পে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তিনি ফারসি কবি হাফিজের সাথে চিঠি ও কবিতা আদান-প্রদান করতেন। বাংলার সুলতানগণ কায়রোর আব্বাসীয় খলিফার কাছে নামেমাত্র আনুগত্যের অঙ্গীকার করতেন। বাংলা সুলতানদের মুদ্রায় প্রায়শই সমসাময়িক আব্বাসীয় খলিফার নাম খোদাই করা থাকতো। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ পাণ্ডুয়ার পাশাপাশি মধ্য বাংলার শহর সোনারগাঁওয়ে তার দরবার অনুষ্ঠিত করতেন। চীনা দূতদের ভ্রমণ বিবরণে উল্লেখ আছে যে সুলতান সোনারগাঁওয়ের নদীবন্দরের কাছে একটি প্রাসাদে বাস করতেন। নদীবন্দরের চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাথে জাহাজ চলাচলের সংযোগ ছিল। ১৪০৬ সালে, মা হুয়ান সোনারগাঁওকে একটি বড় মহানগর হিসেবে বর্ণনা করেন। অন্যান্য চীনা দূতরা একটি দুর্গপ্রাচীর বেষ্টিত শহরের বিবরণ দিয়েছেন। সোনারগাঁও ছিল সুফি শিক্ষা ও ফারসি সাহিত্যের কেন্দ্র এবং আজম শাহ এমনকি হাফিজকে সেখানে বসতি স্থাপনের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দিল্লি সালতানাতের সময় আবু তাওয়ামা যেসব প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন, তার উত্তরসূরিরা বাংলা সালতানাতে তা বজায় রাখেন। এর মধ্যে সুফি প্রচারক ইব্রাহিম দানিশমন্দ, সৈয়দ আরিফ বিল্লাহ মুহাম্মদ কামেল, সৈয়দ মুহাম্মদ ইউসুফ এবং অন্যান্যরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

১৫শ শতাব্দীতে গনেশের উত্থান

[সম্পাদনা]

পনেরো শতকের শুরুর দিকে, ইলিয়াস শাহি শাসনকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন একজন শক্তিশালী হিন্দু জমিদার রাজা গণেশ। তিনি তার ছেলেকে (ইসলাম ধর্মান্তরিত), জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহকে সিংহাসনে বসাতে সক্ষম হন। জালালউদ্দিনের রাজত্ব তুলনামূলকভাবে স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি একজন আরাকানি রাজাকে আরাকান পুনর্দখল করতে সাহায্য করেছিলেন। পাশাপাশি জালালউদ্দিন ফতেহাবাদ দখল করেন। সুলতানি শাসনে তিনি আরো স্থানীয় বাঙালি উপাদানের প্রবর্তন করেন। প্রথমদিকে আব্বাসীয় খলিফার প্রতি অনুগত থাকলেও পরবর্তীতে নিজেকে খলিফা হিসেবে ঘোষণা করে বাঙালি মুসলিমদের স্বায়ত্তশাসনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ১৪৩২ সালে ইলিয়াস শাহি বংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

পান্ডুয়া থেকে এক দশকের বেশি সময় ধরে নয়জন রাজা বাংলা শাসন করেছিলেন। তারা প্রাসাদ, দুর্গ, সেতু, মসজিদ এবং সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। চীনা দূত মা হুয়ান সেই সময়ে তার ভ্রমণ বিবরণে পান্ডুয়া শহরের বর্ণনা করেন। তার বর্ণনায় উল্লেখ আছে - "শহরের দেয়ালগুলি খুবই দর্শনীয়, বাজারগুলি সুসজ্জিত, পাশাপাশি দোকানগুলি, সুশৃঙ্খল সারিতে স্তম্ভগুলি সাজানো, নানা ধরনের পণ্যে পরিপূর্ণ "। পান্ডুয়া কাপড় এবং ওয়াইন রপ্তানির একটি কেন্দ্র ছিল। কমপক্ষে ছয় ধরনের সূক্ষ্ম মসলিন এবং চার ধরনের ওয়াইন পাওয়া যেত পান্ডুয়ায়। পান্ডুয়ার তুঁত গাছের ছাল থেকে উন্নতমানের কাগজ তৈরি করা হত। ১৪৫০ সালে সুলতান মাহমুদ শাহ বাংলার রাজধানী পান্ডুয়া থেকে গৌড়ে স্থানান্তর করেন। এই স্থানান্তরের সম্ভাব্য কারণগুলির মধ্যে একটি ছিল কাছাকাছি নদীর গতিপথের পরিবর্তন।

মাহমুদ শাহের রাজত্বকালে সুন্দরবন নিয়ন্ত্রণ আরো সুদৃঢ় হয়। সুন্দরবনের গভর্নর খান জাহান আলী খলিফাতাবাদ নামক টাকশাল শহর নির্মাণ করেন। অন্যান্য অনেক কর্মকর্তার মতো, তৈমুরের দিল্লি দখলের পর খান জাহান বঙ্গদেশে বসতি স্থাপন করেছিলেন। রুকুনউদ্দিন বারবক শাহের রাজত্বকালে ম্রক-উ রাজ্য চট্টগ্রাম দখল করে। পনেরো শতকের শেষদিকে আবিসিনীয় ভাড়াটে বাহিনী থেকে চারজন সুলতান ক্ষমতা কেড়ে নেয়। বিভিন্ন মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা প্রায়শই সালতানাতকে প্রভাবিত করেছিল।

বাংলা সালতানাতের হোসেন শাহী রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আলম[৯]

আঞ্চলিক সম্রাজ্য (১৫শ এবং ১৬শ শতাব্দী)

[সম্পাদনা]

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ১৪৯৪ সালে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ বাংলার নিয়ন্ত্রণ লাভ করেন। আলাউদ্দিন হোসেন শাহ হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন, যার উৎপত্তি ছিল আরব বা আফগান সৈয়দ বংশ থেকে। তিনি অস্থিরতার যুগের অবসান ঘটান। সুলতান হিসেবে হোসেন শাহ ১৫১৯ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। তিনি যে বংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করে। হোসেন শাহী বংশের শাসনামলে মুসলিম ও হিন্দুরা যৌথভাবে রাজকীয় প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করে। এই যুগকে প্রায়শই বাংলা সালতানাতের স্বর্ণযুগ হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে বাঙালি অঞ্চলগুলির মধ্যে ছিল আরাকান, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা ও আসামের অংশবিশেষ। হোসেন শাহের নির্দেশে শাহ ইসমাইল গাজী কামতা বিজয়ের সময় বাঙালি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন এবং আসামের বড় অংশ জয় করেন। হিন্দু খেন রাজবংশকে উৎখাত করার পর, রাজকুমার দানিয়ালকে নতুন অঞ্চলের গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। ১৫১২-১৫১৬ সালে বাংলা সালতানাতের সাথে ম্রক-উ রাজ্যের যুদ্ধের পর, হোসেন শাহ চট্টগ্রাম ও উত্তর আরাকানে বাঙালি সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। হোসেন শাহ "কামরূপ, কামতা, যাজনগর এবং উড়িষ্যার বিজেতা" ঘোষণা করে মুদ্রা তৈরি করেছিলেন। ১৫১৩ সালের সোনারগাঁওয়ের একটি শিলালিপি অনুসারে, হোসেন শাহ ত্রিপুরা রাজ্যের বড় অংশগুলি সংযুক্ত করেছিলেন। প্রতাপগড় রাজ্য বাঙালিদের আধিপত্যের অধীনে আসে। হোসেন শাহ উড়িষ্যার গজপতি শাসকদের বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি অভিযান চালান এবং উত্তর উড়িষ্যার নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষিত করেন। হোসেন শাহ পশ্চিমে বাংলার অঞ্চলকে বিহারের বাইরে জৌনপুরের সারান পর্যন্ত প্রসারিত করেন। দিল্লির লোদি রাজবংশের আক্রমণের পর জৌনপুরের সুলতান বাংলায় আশ্রয় নেন। দিল্লির সুলতান জৌনপুরের সুলতানকে অনুসরণ করে বাংলা আক্রমণ করেন। তেমন কোন পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়ে দিল্লির সুলতান বাংলার সাথে শান্তি চুক্তি করে প্রত্যাহার করেন। নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহের অধীনে, সালতানাত মিথিলা অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং ওইনিওয়ার রাজবংশকে ১৫২৬ সালে সংযুক্ত করে, যুদ্ধে ওইনিওয়ার শাসক লক্ষ্মীনাথসিংহকে হত্যা করা হয়।

ক্যালিকট রাজ্যে ভাস্কো দা গামার অবতরণের পর পর্তুগীজ ভারতের দূতাবাসগুলি প্রায়শই বাংলার রাজধানী গৌড় পরিদর্শন করে। অনেক পর্তুগিজ বণিকের বসবাসের রেকর্ড পাওয়া যায় বাংলা সালতানাতের রাজধানী গৌড়ে। পর্তুগিজদের সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ গৌড়েই রূপায়িত হতো। পর্তুগীজরা গৌড়ের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তারা লিসবনের সাথে গৌড়ের সমৃদ্ধির তুলনা করেছে। শহরটির মধ্যে ছিল একটি দুর্গ, একটি রাজপ্রাসাদ ও দরবার, মসজিদ, ধনীদের জন্য বাড়ি, এবং জমজমাট বাজার। পর্তুগিজ ইতিহাসবিদ কাস্টেনহাডা দে লোপেজ গৌড়ের ঘরগুলিকে আলংকারিক ফ্লোর টাইলস, উঠান এবং বাগান সহ একতলা হিসাবে বর্ণনা করেছেন। গৌড় ছিল আঞ্চলিক রাজনীতির কেন্দ্র। বাংলার সুলতান চট্টগ্রামে পর্তুগিজ বসতি স্থাপনের অনুমতি দেন। আইবেরিয়ান ইউনিয়নের সময়, চট্টগ্রামের উপর পর্তুগীজদের কোন আনুষ্ঠানিক সার্বভৌমত্ব ছিল না। পর্তুগিজ পোস্টটি জলদস্যুদের দ্বারা পূর্ণ ছিল, যারা বাংলার বিরুদ্ধে আরাকানিদের সাথে মিত্রতা করেছিল।

পতন (১৬শ শতাব্দী)

[সম্পাদনা]

মুঘল সাম্রাজ্যের সাথে বাংলার সংযুক্তি ছিল একটি ধীরগতির প্রক্রিয়া। প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর ঘাঘরার যুদ্ধে সুলতান নাসির উদ্দিন নুসরাত শাহের নেতৃত্বে বাংলার বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয় মুঘল সম্রাট হুমায়ুন শের শাহ সুরির আক্রমণের সময় বাংলার রাজধানী গৌড় দখল করে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হুমায়ুন পারস্যের সাফাভিদ সাম্রাজ্যে আশ্রয় নেন। শের শাহ সুরি বাংলা জয় করতে সফল হন এবং গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড সংস্কার শুরু করেন। সুরি সরকার বাংলা শাসনের জন্য পরপর গভর্নর নিয়োগ করেন। ইসলাম শাহ সুরির মৃত্যুর পর তৃতীয় গভর্নর মুহাম্মদ খান সুর স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাংলা সালতানাত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

পাশতুন কররানী রাজবংশ ছিল সালতানাতের শেষ শাসক বংশ। রিয়াজ-উস-সালাতিন অনুসারে, সুলতান সুলাইমান খান কররানী ১৫৬৫ সালে রাজধানী গৌড় থেকে টান্ডায় স্থানান্তরিত করেন। সুলাইমান খান কররানী উড়িষ্যার বৃহৎ অংশ দখল করেন। তার রাজত্বকালে বাংলা সালতানাতের অঞ্চল উত্তরে কোচবিহার থেকে দক্ষিণে পুরী এবং পশ্চিমে সোন নদী থেকে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মুঘলরা বাংলা সালতানাতের সম্প্রসারণবাদকে রুখতে বদ্ধপরিকর হয়ে উঠেছিল, কারণ তারা বাংলার ঐশ্বর্য দখলের আকাঙ্ক্ষী ছিল। উড়িষ্যার টুকারোইয়ের যুদ্ধে আকবরের নেতৃত্বে মুঘল বাহিনী বাংলা সালতানাতের সর্বশেষ সুলতান দাউদ খান কররানীর নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে পরাজিত করে এবং এর ফলে কটকের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। মুঘল শাসন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় রাজমহলের যুদ্ধের মাধ্যমে যখন বাংলার শেষ সুলতান আকবরের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। ফলে বাংলা সুবা নামে মুঘল প্রদেশ সৃষ্টি হয়।

পূর্বের ব-দ্বীপীয় ভাটি অঞ্চল সতেরো শতকের গোড়ার দিকে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত মুঘল নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। এই ব-দ্বীপটি সালতানাতের সাবেক বারোজন অভিজাত ব্যক্তির একটি ফেডারেশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো, যারা বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত ছিলেন। তাদের নেতা ছিলেন ঈশা খাঁ, যিনি একজন জমিদার এবং তার মা সৈয়দা মোমেনা খাতুনের মাধ্যমে সালতানাতের একজন সাবেক অভিজাতও ছিলেন। ফেডারেশনটি ক্ষুদ্র রাজ্য দ্বারা গঠিত ছিল। মুঘল সরকার অবশেষে ভাটি এলাকার স্বাধীন রাজ্যগুলোকে দমন করে এবং সমগ্র বাংলাকে পূর্ণ মুঘল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী

[সম্পাদনা]
ষাট গম্বুজ মসজিদ ইউনেস্কোর একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট

বাংলা সালতানাত ছিল রাজতন্ত্রিক। ইলিয়াস শাহী রাজবংশ একটি পারস্যীয় সমাজ কাঠামো গড়ে তুলেছিল। রাজধানী শহরগুলির আদালত সুলতানকে পবিত্র করে তোলে, পারস্যযুক্ত রাজকীয় প্যারাফার্নালিয়া ব্যবহার, সাসানীয় সাম্রাজ্যিক দৃষ্টান্তের আদলে একটি বিস্তৃত আদালতের অনুষ্ঠান গ্রহণ, একটি শ্রেণিবিন্যাসিক আমলাতন্ত্র নিযুক্ত করেছিল এবং ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসাবে ধরে রেখেছে। জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহের উত্থানে আরও অনেক দেশীয় উপাদান আদালতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১০] হুসেন শাহী রাজবংশ বহু হিন্দুকে সরকারে নিয়োগ দিয়েছিল এবং একধরনের বহু ধর্মীয় সহানুভুতি প্রচার করেছিল।[১১]

কদম রসুলের শিলালিপি

টাকশাল শহর

[সম্পাদনা]

বাঙ্গালা সালতানাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল টাকশাল শহর । শহরগুলিতে রাজকীয় রাজধানী এবং প্রাদেশিক রাজধানী অন্তর্ভুক্ত ছিল যেখানে টাকার মুদ্রা তৈরি করা হতো। মুদ্রাগুলি সালতানাতের অভ্যন্তরে অর্থনীতি, প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলির বিতরণ এবং নগর কেন্দ্রগুলির উত্থান ও পতনের চিত্র তুলে ধরে। সাম্রাজ্যের প্রসারণের সাথে ধীরে ধীরে টাকশাল শহরের সংখ্যা বেড়েছে। নিচে প্রতিষ্ঠিত শহরের আংশিক তালিকা দেওয়া হলো:[১২]

  1. লখনৌতি
  2. সোনারগাঁও
  3. গিয়াসপুর (ময়মনসিংহ)
  4. সাতগাঁও
  5. ফিরোজাবাদ (পান্ডুয়া)
  6. শাহর-ই-নওয়া (পান্ডুয়া)
  7. মুজ্জামবাদ (সোনারগাঁ)
  8. জান্নাতবাদ (লখনৌতি)
  9. ফতেহবাদ (ফরিদপুর)
  10. চাটগাঁও (চট্টগ্রাম)
  11. রোহতাসপুর (বিহার)
  12. মাহমুদাবাদ (যশোর ও নদিয়া)
  13. বারবাকাবাদ (দিনাজপুর)
  14. মুজাফফারাবাদ (পান্ডুয়া)
  15. মুহম্মদাবাদ
  16. হুসেনাবাদ (২৪ পরগনা)
  17. চন্দ্রবাদ (মুর্শিদাবাদ)
  18. নুসরতবাদ (বগুড়া ও রংপুর)
  19. খলিফতাবাদ (বাগেরহাট)
  20. বদরপুর (বাগেরহাট)
  21. শরীফাবাদ (বীরভূম)
  22. টান্দাহ (মালদা

অধীন রাজ্যসমূহ

[সম্পাদনা]

অধীন রাজ্যসমূহ ছিল বাংলার সুলতানের অধীনে কর প্রদানকারী রাজ্য। এই অঞ্চলগুলির উপর বিভিন্ন কারণে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অধীন রাজ্যসমূহে মুসলিম, হিন্দু এবং বৌদ্ধ শাসক ছিল। নিম্নলিখিতটি সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য অধীন রাজ্যসমূহর চিত্র তুলে হলো:

আরকান

[সম্পাদনা]

দক্ষিণ-পূর্বে আরাকান ছিল বাঙ্গলা সালতানাতের বিশিষ্ট অধীন রাজ্যসমূহ। ১৪৩০ সালে, বঙ্গ সালতানাত বাঘান থেকে আগত বার্মিজ আক্রমণকারীদের তাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ম্রাক ইউতে আরাকান সিংহাসন পুনরুদ্ধার করে। আরাকান এক লম্বা সময়ের জন্য বাংলার সুলতানকে কর প্রদান করেছিলেন, সময়সীমার সাথে যা শতাব্দী বা কয়েক দশকের অনুমানের মধ্যে ছিল।[১৩][১৪] আরাকানীয় শাসকরা শাহ উপাধি গ্রহণ এবং আরবি ও বাংলা লিপিতে মুদ্রা খনন সহ সালতানাতের পরিচালনার কৌশলগুলি বাংলার প্রতিরূপ তৈরি করেছিল।[১৫]

চন্দ্রদ্বীপ

[সম্পাদনা]

দক্ষিণবঙ্গে, চন্দ্রদ্বীপ দ্বীপটি প্রাক-ইসলামী হিন্দু দেব বংশের বংশধরদের অধীনে ছিল। হুসেন শাহী রাজবংশের রাজত্বকাল অবধি এই রাজ্যটি শাহী বাংলার একটি অধীন রাষ্ট্র ছিল, তখন এটি সালতানাতের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত ছিল।[১৬][১৭]

প্রতাপগড়

[সম্পাদনা]

উত্তর-পূর্ব বরাক উপত্যকায়, প্রতাপগড় রাজ্যের শাসক বাজিদ নিজেকে বাংলার সুলতানের সমতুল্য সুলতান হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন। একাজ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে প্রতিশোধের তামান্না বাড়িয়ে দেয়, তাই তিনি প্রতাপগড়ে নবগঠিত সুলতানতকে দমন করতে সরওয়ার খানকে (হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণকারী) প্রেরণ করেন। বাজিদ পরাজিত হয়ে বাংলার সুলতানের প্রতি শ্রদ্ধাসূচক কর প্রদানে সম্মত হন। বাজিদ সিলেটের উপরেও তার দাবি ত্যাগ করেন।[১৮][১৯]

ত্রিপুরা

[সম্পাদনা]

পূর্বে, ত্রিপুরা সোনা, রৌপ্য এবং অন্যান্য পণ্য সরবরাহের জন্য বাংলার পক্ষে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ত্রিপুরার সুদূর স্বর্ণের খনি এবং পার্বত্য বাণিজ্য নেটওয়ার্কগুলি দূর প্রাচ্যের সাথে যুক্ত ছিল। ১৪৬৪ সালে, বাংলার সুলতান রত্ন মানিক্যকে ত্রিপুরী সিংহাসনে আসীন হ্তে সহায়তা করেছিলেন। ত্রিপুরা ছিল বাংলার বিশিষ্ট অধীন রাজ্য।[১৪][২০][২১]

সামরিক অভিযান

[সম্পাদনা]
বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর থেকে প্রাপ্ত বাংলার সালতানাতের একটি হেলমেট।

সুলতানদের একটি সুসংগঠিত সৈন্য বাহিনী ছিল, যার মধ্যে ছিল অশ্বারোহী, আর্টিলারি, পদাতিক এবং যুদ্ধ হাতি; এবং একটি নৌবাহিনী। নদীভূগোল ও জলবায়ুর কারণে বাংলায় সারা বছর অশ্বারোহী বাহিনী ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না। অশ্বারোহী বাহিনী সম্ভবত বঙ্গ সালতানাতের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে দুর্বল উপাদান ছিল, কারণ ঘোড়াগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়েছিল। আর্টিলারি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ছিল। পর্তুগীজ ঐতিহাসিক জোয়াও ডি বারোস মন্তব্য করেন যে আরাকান ও ত্রিপুরা উপর বাংলার সামরিক আধিপত্য তার দক্ষ আর্টিলারির কারণে হয়েছে। আর্টিলারি বিভিন্ন আকারের কামান এবং বন্দুক ব্যবহার করত।[২২] পাইকরা এই সময়ে বাংলার পদাতিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে। কিছু সময় ছিল যখন পাইকরা রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। ধনুক, তীর ও বন্দুক ব্যবহার করা পদাতিক সৈন্যদের বিশেষ যুদ্ধ বাবরের মনোযোগ আকর্ষণ করে।[২২]

যুদ্ধ হাতি বাংলার সেনাবাহিনীতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুদ্ধের সামগ্রী বহন ছাড়াও সশস্ত্র সৈন্যদের চলাচলের জন্য হাতি ব্যবহার করা হয়। নদীবাংলায় হাতির উপকারিতা খুব ধীর হলেও কমানো যায়নি। নদীবাংলায় নৌবাহিনীর প্রধান প্রয়োজন ছিল। প্রকৃতপক্ষে, অশ্বারোহী বাহিনী ছয় মাসের জন্য এই দেশ টিকিয়ে রাখা নিশ্চিত করতে পারে, অন্যদিকে পাইকদের সমর্থিত নৌকাগুলো বছরের বাকি অর্ধেক সময় ধরে আধিপত্যের আদেশ দিতে পারে। ইওয়াজ খলজির সময় থেকে, যিনি প্রথম ইসলামিক বাংলায় একটি নৌ বাহিনী সংগঠিত করেন, যুদ্ধ নৌকা দেশের রাজনৈতিক বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অ্যাডমিরাল প্রধান যুদ্ধ হাতি পরিবহনের জন্য শক্তিশালী নৌকা ফিট করার জন্য জাহাজ নির্মাণ, নদী পরিবহন সহ বিভিন্ন দায়িত্ব ছিল; সামুদ্রিক দের নিয়োগ করা; নদীতে টহল দেওয়া এবং ঘাটে টোল আদায় করা। হুসেন শাহী রাজবংশের সময় নৌবাহিনীর দক্ষতা হ্রাস করা হয়। সুলতানরা অস্থায়ী কাদা দেয়াল ঘেরা দুর্গ সহ দুর্গ নির্মাণ করেন।[২২]

বাংলা-দিল্লি যুদ্ধ

[সম্পাদনা]

১৩৫৩ সালে দিল্লির সুলতান নবগঠিত বঙ্গ সালতানাত আক্রমণ করেন। একডালা দুর্গ অবরোধের পর, বাংলা দিল্লির সুলতানকে শ্রদ্ধা জানাতে সম্মত হয়। ১৩৫৯ সালে পূর্ববর্তী শান্তি চুক্তি ভেঙ্গে যাওয়ার পর দিল্লি আবার বাংলা আক্রমণ করে। যাইহোক, সমঝোতা রশেষে একটি নতুন চুক্তি রচিত হয় যেখানে দিল্লি বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করে।[২৩] বাংলার সুলতানরাও দক্ষিণ ভারতীয় মিত্রদের কাছ থেকে সমর্থন লাভ করে। ষোড়শ শতাব্দীতে দিল্লির লোদি রাজবংশ আবার জৌনপুরের সুলতানের সন্ধানে বাংলা আক্রমণ করে। লোদিরা অবশেষে বাংলার সাথে একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়।

বাংলা-জৌনপুর যুদ্ধ

[সম্পাদনা]

জৌনপুর সালতানাত ১৫ শতকে বাংলা আক্রমণ করে। মিং চীন এবং হেরাতের তিমুরিদ শাসকের কূটনৈতিক সহায়তায় বাংলা জৌনপুরী আগ্রাসন প্রতিরোধ করে।[২৪][২৫]

আসাম অভিযান

[সম্পাদনা]

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা প্রায়ই বাঙালি আগ্রাসনের শিকার হয়। হুসেন শাহী রাজবংশের সময় আসামের উপর বাংলা নিয়ন্ত্রণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ কামতা রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় হিন্দু খেন রাজবংশ উৎখাত করেন। বারো-ভুঁইয়ারা কয়েক বছরের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন উৎখাত করে এবং স্থানীয় শাসন পুনরুদ্ধার করে।

অর্থনীতি

[সম্পাদনা]

শাহী বাংলা অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে দিল্লি সুলতানির পূর্ব দিকগুলি, যেমন শহর, বেতনযুক্ত আমলা এবং জমিদার মালিকানার জাগিদার ব্যবস্থা বলবৎ। বাংলার সুলতানের নামে রচিত রৌপ্য মুদ্রার উৎপাদন ছিল বাঙালি সার্বভৌমত্বের চিহ্ন।[২৬] দিল্লি এবং অন্যান্য সমসাময়িক এশীয় ও ইউরোপীয় সরকারগুলির চেয়ে খাঁটি রৌপ্য মুদ্রা বানাতে বাংলা আরও বেশি সফল ছিল। রৌপ্যের তিনটি উৎস ছিল। প্রথম উৎসটি ছিল পূর্ববর্তী রাজ্যের বাকী রৌপ্য মজুদ। দ্বিতীয় উৎস হ'ল অধীনস্থ রাজ্যের শ্রদ্ধা নিবেদন যা রৌপ্যর ছিল। তৃতীয় উৎস ছিল সামরিক অভিযানের সময় যখন বাংলার বাহিনী প্রতিবেশী রাজ্যগুলিকে অভিযান করেছিল।[২৭]

পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরুতে বঙ্গীয় অর্থনীতির আপাত উজ্জ্বলতাকে দিল্লি প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের শেষ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, যা বাংলার স্বাধীনতার পরে বন্ধ হয়ে যায় এবং সম্পদের বহিঃপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। মা হুয়ানের সমৃদ্ধ জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সাক্ষ্য এই প্রমাণ করে যে বাংলা বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উপকূলীয় বাণিজ্য ব্যাপকভাবে উপভোগ করেছিল। মসলিন উৎপাদন, রেশম চাষের সম্প্রসারণ এবং আরও কয়েকটি কারুকাজের উত্থান ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল মা হুয়ানের বাংলা থেকে চীন রফতানি হওয়া বস্তুর তালিকায়। পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভারত মহাসাগর থেকে সরে আসার আগ পর্যন্ত বাংলার জাহাজ এবং চীনা জাহাজসমূহ সহাবস্থানে ছিল। লুডোভিচো ডি ভার্থেমা, দুয়ার্তে বার্বোসা এবং তোমে পিরে মতো ইউরোপীয় ভ্রমণকারীদের সাক্ষ্য মালাক্কায় বিপুল সংখ্যক ধনী বাঙালি বণিক এবং জাহাজের মালিকের উপস্থিতির প্রমাণ দেয়।[২৮][২৯][৩০] বাংলা ছিল এক প্রকার আড়ৎ। উদাহরণস্বরূপ, ঘোড়াগুলি বাংলায় আমদানি করা হতো এবং পুনরায় চীনে রফতানি করা হ্তো।[৩১]

বাংলায় একটি জোরদার নদীকেন্দ্রিক জাহাজ নির্মাণের ঐতিহ্য বিদ্যমান ছিল। গঙ্গা বদ্বীপে সালতানতের নৌ মহড়ার জাহাজ নির্মাণের ঐতিহ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। বঙ্গ ও মালদ্বীপের ধান এবং গাভী শেলের বাণিজ্য সম্ভবত আরব ধাঁচের বাঘলা জাহাজের মাধ্যমে হয়েছিল। চীনা বিবরণগুলি দক্ষিণ পূর্ব এশীয় সাগরে বাংলা জাহাজগুলি বিশিষ্ট ছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বাংলার একটি জাহাজ, সম্ভবত বাংলার সুলতানের মালিকানাধীন, বাংলা, ব্রুনাই এবং সুমাত্রা থেকে তিনটি শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থা করতে পারত - সম্ভবত এ জাতীয় কাজেই সক্ষম একমাত্র জাহাজ ছিল এটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সাগরে মধ্যে সেই দশকগুলিতে বাংলার জাহাজগুলো ছিল সবচেয়ে বড় ।[৩২]

শিল্প

[সম্পাদনা]

সাহিত্য এবং চিত্র

[সম্পাদনা]
আলেকজান্ডার রানী নুশাবার সাথে তাঁর সিংহাসন ভাগ করে বসার এক বাংলা ফারসি পান্ডুলিপি। দৃশ্যটি নিজামী গজনবীর ইস্কান্দারনামা (আলেকজান্ডারের বই) অবলম্বনে আকা। পান্ডুলিপিটি সুলতান নুসরত শাহ প্রকাশ করেছিলেন যিনি ১৫১৯ থেকে ১৫৩৩ সালের মধ্যে রাজত্ব করেছিলেন। (ব্রিটিশ গ্রন্থাগার)

মুসলিম কবিরা পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে বাংলা ভাষায় লেখালিখি শুরু করেন। ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে এই অঞ্চলে সুফিবাদ এবং ইসলামী বিশ্বজগতের ধারণার উপর ভিত্তি করে একটি আঞ্চলিক সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। বাঙালি মুসলিম মরমী সাহিত্য মধ্যযুগীয় ভারতের অন্যতম আদি নিদর্শন ছিল।[৩৩]

তিন ধৌতকারী (পান পেয়ালা)সহ এ আলোচনা চলছে

হিন্দুস্থানের সকল তোতা পাখি (কবিগণ) ঠোঁট দিয়ে মিছরিদানা ভাঙছে

যে, ফারসির এই মিছরিখন্ড (ফারসি গজল), বাংলায় যাচ্ছে

— সুফি কবি হাফিজ শিরাজী এবংসুলতান গিয়াসুদ্দীন এর পত্রালাপ, [৩৪]

ফারসি সরকারি ভাষা হওয়ায় , বাংলায় প্রচুর পারস্যের পণ্ডিত, আইনজীবী, শিক্ষক এবং আলেমদের আগমন ঘটেছিল। এটি অভিজাত ও সুফীদের পছন্দের ভাষা ছিল। বাংলায় হাজার হাজার ফারসিবই এবং পাণ্ডুলিপি প্রকাশিত হয়েছিল। বাংলায় সংকলিত প্রথম ফারসি রচনাটি অমৃতকুণ্ডের সংস্কৃত থেকে অনুবাদ ছিল যা সমারকন্দের কাজী রুকনুদ্দীন আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মাদ আল-আমিদী, যিনি বিখ্যাত হানাফি ফিকাহবিদ ও সুফি ছিলেন। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে সোনারগাঁও শহর গদ্য ও কবিতার বহু প্রকাশনা নিয়ে পারস্য সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সময়টিকে "বাংলায় ফারসি সাহিত্যের স্বর্ণযুগ" হিসাবে বর্ণনা করা হয়। এর গুরুত্ব বোঝা যায় ফার্সী কবি হাফেজ শিরাজি সাথে সুলতানের বিনিময় নিজস্ব চিঠিপত্রের দ্বারা। সুলতান যখন হাফিজকে অসম্পূর্ণ গজলটি সম্পন্ন করার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন, তখন খ্যাতিমান কবি রাজার দরবারের মহিমা এবং বাংলা-ফারসি কবিতার সাহিত্যের গুণকে স্বীকার করে প্রতিক্রিয়া জানান।

পান্ডুলিপি চিত্রগুলিতে সালতানাতের ফ্যাশন এবং স্থাপত্য চিত্রিত হয়েছে। পান্ডুলিপির চিত্রগুলি সালতানাতের একটি মূল শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য। এই ঐতিহ্যের সর্বাধিক পরিচিত উদাহরণগুলির মধ্যে একটি ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুলতান নুসরত শাহ প্রকাশিত শরফ্নামা। এটিতে আলেকজান্ডার গ্রেট-এর বিজয় সম্পর্কে নিজামী গজনবীর মহাকাব্য রয়েছে।[৩৫][৩৬]

স্থাপত্য

[সম্পাদনা]

নগর স্থাপত্য

[সম্পাদনা]

শাহী বাংলা শহরগুলি ছিল মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি বিশেষত রাজকীয় রাজধানী গৌড় এবং পান্ডুয়ার । ১৫০০ সালে, রাজধানী গৌড় ছিল জনসংখ্যার দিক দিয়ে বেইজিং, বিজয়নগর, কায়রো এবং কুয়াংচৌর পরে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম নগর। এর জনসংখ্যা ২০০,০০০ জন (এই সময়ে, বিশ্ব জনসংখ্যা ৪০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন এর মধ্যে ছিল বলে অনুমান করা হয়)।[৩৭][৩৮][৩৯] পর্তুগিজ ঐতিহাসিক ক্যাস্তেনহদা দে লোপেজ গৌড়ের ঘরগুলিকে একতলা বিশিষ্ট, শোভাময় টাইলসের মেঝে , উঠোন এবং উদ্যান ছিল বলে বর্ণনা করেন। শহরটিতে একটি দুর্গ, দরবার, প্রহরীদুর্গ, খাল, সেতু, বিশাল গেটওয়ে এবং একটি শহরের প্রাচীর ছিল।[৪০] রাজপ্রাসাদটি তিনটি বিভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথম অংশ ছিল রাজদরবার। দ্বিতীয়টি ছিল সুলতানের খাস কামরা বা কক্ষ। তৃতীয়টি ছিল হারেম। একটি উঁচু প্রাচীর প্রাসাদটি বেষ্টিত। একটি উচু দেয়াল প্রাসাদকে ঘিরে ছিল এবং তিন দিকে পরিখা ছিল ও অন্যদিক গঙ্গার সাথে সংযুক্ত ছিল। পান্ডুয়া শহরটি একটি ছোট্ট জনপদ থেকে সামরিক সদর দপ্তরে পরিণত হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে রাজকীয় মসজিদ এবং দরগাহ। সালতানাতের নগর স্থাপত্য আরব, বাংলা, ফারসি, ইন্দো-তুর্কি এবং বাইজেন্টাইন প্রভাবের ভিত্তিতে ছিল। সুলতান নুসরত শাহ প্রকাশিত ইস্কান্দারনামা তে সালতানাতের ঘরগুলির ঝলক দেখা যায়।[৪১] উল্লেখযোগ্য দেশীয় স্থাপত্য উন্নয়ন হয়েছে। বাংলার ছাদগুলি ১৫ ম শতাব্দীতে থেকে কংক্রিট তৈরি হতে শুরু হয়। এই ছাদগুলি পরে মুঘল সাম্রাজ্য এবং ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমের রাজপুত রাজ্যে ব্যাপকভাবে প্রতিলিপি করা হয়।

মসজিদ স্থাপত্য

[সম্পাদনা]

ওলেগ গ্রাবার সম্পাদিত একটি বইতে পেরিউন হাসানের মতে, শাহী বাংলার মসজিদের বিভিন্ন সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নির্দেশিত খিলান, একাধিক মিহরাব, কোণার টাওয়ার এবং পোড়ামাটি এবং পাথরের সাজসজ্জা।[৩৫] বিশেষত, মিহরাব শিল্পটি বাংলার মসজিদ স্থাপত্যের চেয়ে নিখুঁত এবং অনন্য।[৪২] মসজিদগুলি আয়তক্ষেত্রাকার এবং বহু গম্বুজযুক্ত বা বর্গক্ষেত্র এবং একক গম্বুজযুক্ত ছিল। শাহী বাংলার আমলে নির্মিত বিপুল সংখ্যক মসজিদটি স্থানীয় জনগণের যে দ্রুততার সাথে ইসলামে গ্রহণ করে তা নির্দেশ করে। ১৪৫০ এবং ১৫৫০ এর মধ্যে সময়কাল একটি নিবিড় মসজিদ নির্মাণের যুগ ছিল। এই মসজিদগুলি গ্রামাঞ্চলে মাঝামাঝিতে, ছোট থেকে মাঝারি আকারের এবং দৈনিক ইবাদতের জন্য ব্যবহৃত হত। মসজিদের পাশে প্রায়শই পুকুর অবস্থিত ছিল। মসজিদগুলিতে আরবি শিলালিপিতে প্রায়শই পৃষ্ঠপোষক বা নির্মাতার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকত। শিলালিপিতে সর্বাধিক উল্লেখ করা কুরআনের আয়াতটি ছিল সূরা আল-জ্বিন।[৪১] ভবনগুলি ইট বা পাথরের তৈরি ছিল। পোড়ামাটির অলংকরণ সমেত ইটের মসজিদটি বঙ্গীয় সালতানাতের একটি দুর্দান্ত কাঠামোর প্রতিনিধিত্ব করে। এগুলি প্রায়শই একজন ধনী পৃষ্ঠপোষকের উপহার এবং অসাধারণ প্রচেষ্টার ফল ছিল, যা প্রতিটি মুসলিম পাড়ায় পাওয়া যেত না। মসজিদগুলি বেঙ্গল সালতানাতের ব্যাপক এলাকা জুড়ে নির্মিত হয়েছিল। সালতানাতের মসজিদগুলির সর্বাধিক ঘনত্ব বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ এবং ভারতীয় পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে পাওয়া যায়। গভর্নর খান জাহান আলীর পৃষ্ঠপোষকতার ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার সুন্দরবন বনের কাছে একটি মসজিদ নগরী বিকশিত হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে, ইউনেস্কো শহরটিকে একটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।[৪৩] কেন্দ্রীয় অঞ্চলগুলিতে যেমন, ফরিদপুরের পাতরাইল মসজিদ সুলতানি যুগের অন্যতম সংরক্ষিত। উত্তর-পূর্বে, সিলেটের শংকরপাশা শাহী মসজিদ বঙ্গীয় সালতানাতের একটি সুরক্ষিত মসজিদ। ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামের পানবাড়ি মসজিদটি সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের আমলে নির্মিত হয়েছিল। অন্যান্য মসজিদগুলি ভারতের দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের বিহার রাজ্যে, যেমন সাইয়েদ জামালউদ্দিন মসজিদ পাওয়া যায়। দক্ষিণ-পূর্বে, সান্তিকান মসজিদ (১৪৩০-এর দশকে নির্মিত) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে (পূর্বে আরাকান) ধ্বংসাবশেষসহ দাঁড়িয়ে আছে।[৪৪]

সমাধিসৌধ স্থাপত্য

[সম্পাদনা]

বেঙ্গল সালতানাতের মাজারগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যের নিদর্শন। প্রথমদিকে, সরোকফাগি ইরানীয় মডেলগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল, যেমন সাইরাস সমাধি । সারকোফাগিতে মিহরাব এবং খিলানগুলি আদিনা মসজিদের স্থাপত্যের অনুরূপ ভাবে করা হত। উদাহরণস্বরূপ, সোনারগাঁয়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধিতে তাঁর পিতা সুলতান সিকান্দার শাহ নির্মিত আদিনা মসজিদের স্থাপত্যের সাথে মিল রয়েছে। একলাখী সমাধিসৌধ দিয়ে একটি দেশীয় ইসলামী দরগার শৈলীর বিকাশ ঘটে যা সুলতান জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহের রাজকীয় সমাধিসৌধ। গৌড়ের ফতেহ খানের সমাধিসৌধের মতো অন্যান্য সমাধিসৌধে একটি বাংলা ছাদ ছিল।[৪৫]

বৈদেশিক সম্পর্ক

[সম্পাদনা]
চীনের পান্ডুলিপি জিরাফ সম্মানা যা মিং রাজবংশের রাজাকে বাংলার সুলতানের দেওয়া উপহার। (ফিলাডেলফিয়া মিউজিয়াম অফ আর্ট)

শাহী বাংলার সুদৃঢ় বিদেশী সম্পর্ক ছিল। রেকর্ডগুলি দেখায় যে সালতানাতের চীন, ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রগুলির সাথে দূতাবাসগুলি বিনিময় করেছে। কূটনৈতিক মিত্ররা বাংলাকে প্রতিবেশী রাজ্যগুলির আক্রমণ প্রতিহত করতে সহায়তা করেছিল। উদাহরণস্বরূপ, হেরাতের তৈমুরিদ শাসক এবং চীনের মিং সম্রাট বাঙ্গলা সালতানাত-জৌনপুর সালতানাত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়তা করেছিলেন।আঞ্চলিক কূটনীতিতেও বাংলা সক্রিয় ছিল। উদাহরণস্বরূপ, বাঙ্গালার দূতাবাসের জাহাজ চীন থেকে ব্রুনাই এবং আচেহ (সুমাত্রা) দূতদেরও চীনে নিয়ে গিয়েছিল।[৪৬] উপকূলীয় অঞ্চলে পর্তুগিজ বাণিজ্য পোস্ট স্থাপনের জন্য বাংলা পর্তুগিজ ভারতের রাষ্ট্রদূতদের সম্মতি জানায়।[৪৭] অন্যান্য ইউরোপীয় দূতদের মধ্যে ভেনিস এবং বোলগনা প্রজাতন্ত্রের নিক্কোলো দে কন্টি, লুডোভিকো ডি ভার্থেমা এবং কেজার ফ্রেড্রিক অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৪৮][৪৯]

বাংলার সালতানাতের সমুদ্র পথের বৈদেশিক সম্পর্ক

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ মক্কা ও মদীনা তীর্থ শহরগুলিতে মাদ্রাসা নির্মাণের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। বিদ্যালয়গুলি গিয়াসিয়া মাদ্রাসা এবং বনজালিয়া মাদ্রাসা নামে পরিচিতি লাভ করে। সমসাময়িক আরব পণ্ডিত তাকী আল-দীন আল-ফাসি মক্কার মাদ্রাসায় শিক্ষক ছিলেন। মদীনায় মাদ্রাসাটি রাসূলের মসজিদের নিকটে হুসন আল-আতিক নামে একটি জায়গায় নির্মিত হয়েছিল।[৫০] আরও বেশ কয়েকজন বাংলার সুলতান হেজাজে মাদরাসা পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।[৫১]

আফ্রিকার মিশরের সুলতান আশরাফ বার্সবা বাংলার সুলতানকে সম্মানের পোশাক এবং স্বীকৃতি পত্র পাঠিয়েছিলেন।[১৪] পূর্ব আফ্রিকার নগর-রাজ্য মালিন্দির রাষ্ট্রদূতদের বাংলার আদালতে আটক করার নথিও রয়েছে।[৫২] প্রাণী মধ্যযুগীয় আদালতে শ্রদ্ধার একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম ছিল।[৫৩] পূর্ব আফ্রিকান দূতরা জিরাফ নিয়ে এসেছিল, যা বাংলায় চীনা দূতরাও লক্ষ্য করেছিলেন।[৫২] মধ্য এশিয়ায় সুলতান জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ এবং তৈমুরিয় সাম্রাজ্যের সুলতান শাহরুখ মির্জার মধ্যে যোগাযোগের রেকর্ড রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, ইউরোপীয় বিবরণগুলি মতে মালাক্কা সুলতানিতে বিপুল সংখ্যক বাঙালি বণিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বণিকরা অনেক জাহাজের মালিক ছিল। সুলতানের দরবারে এই বণিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল কি না তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।[৩০] জাহাজের মালিকানাধীন বণিকরা প্রায়শই রাজদূত ছিল। বঙ্গোপসাগর এবং ব্রুনাই এবং আচেহর সুলতানিদের মধ্যে যোগাযোগগুলি চীনা বিবরণগুলি লিপিবদ্ধ আছে।[৫৪]

বঙ্গোপসাগরের উপকূলরেখায় শাহী বাংলা আরাকানের উপর প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। বিতাড়িত হয়ে আরাকানি বাদশাহ মিন সো সোম, বাংলায় পালিয়ে এসেছিলেন। একজন পশতুন জেনারেলের নেতৃত্বে বাঙালি বাহিনীর সমর্থন নিয়ে তিনি আরাকান পুনরুদ্ধারের সক্ষম হন এবং তার দেশের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান। পুনরুদ্ধার আরাকান রাজ্য বাংলার একটি অধীন রাজ্যে পরিণত হয়। ১৪৫৯ সালে আরাকানের সাথে যুদ্ধের ফলে বাঙালি সুলতান রুকুনউদ্দিন বারবাক শাহের পরাজয় ঘটে। আরাকানিরা বাংলার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পর্তুগিজদের সাথে একটি জোট গড়ে তোলে। বাংলার সুলতানদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করা সত্ত্বেও আরাকানী রাজারা বাঙালি সুলতানদের অনুরুপ পোশাক, মুদ্রা, উপাধি এবং প্রশাসনিক কৌশলগুলি অনুলিপি করে নিজেকে উপস্থাপন করতে থাকেন। আরাকানে বাঙালি মুসলমানের প্রভাব ৩৫০বছর ধরে ছিল।[৫৫] ভারত মহাসাগরে, বাংলা সালতানাত মালদ্বীপের সাথে ব্যবসায় জড়িত ছিল।

ইতিহাসবিদরা পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে মিং চীনের সাথে বাংলার সম্পর্কের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, Trade and Diplomacy in India-China Relations: A Study of Bengal During the Fifteenth Century তে বাংলা সুলতানি এবং মিং চীনের মধ্যে সম্পর্কের ধারাবাহিক ইতিহাসকে বর্ণনা করে।[৫৬] এই সম্পর্কটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা জওহরলাল নেহেরু তাঁর দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া গ্রন্থেও উল্লেখ করেন।[৫৭] ভারতে বৌদ্ধধর্মের পতনের পরে চীন এবং ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক অস্তিত্বহীন হয়ে ওঠে।[৫৮] পঞ্চদশ শতাব্দীতে বেঙ্গল সুলতানি নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে চীনের সাথে উপমহাদেশের সম্পর্ককে পুনরুদ্ধার করে। সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ মিং রাজবংশে দূত প্রেরণ শুরু করেন। তিনি ১৪০৫, ১৪০৮ এবং ১৪০৯ তে রাষ্ট্রদূত প্রেরণ করেছিলেন। চীনের সম্রাট ইয়ংলে ১৪০৫ থেকে ১৪৩৩ এর মধ্যে বাংলায় রাষ্ট্রদূত পাঠিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন, যাতে ছিল এডমিরাল ঝেং হের নেতৃত্বে ট্রেজার ভ্রমণের বহরের সদস্যরা।[৫৯] দূত আদান-প্রদানের মধ্যে রয়েছে ১৪৪৪ সালে সুলতান শিহাবউদ্দিন বায়াজিদ শাহের একটি পূর্ব আফ্রিকান জিরাফ চীনা সম্রাটকে উপহার।[৬০] মিং চীন পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাংলাকে "ধনী ও সভ্য" এবং চীন ও এশীয় রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসাবে বিবেচনা করত।[৬১] চীন ও বাংলার যোগাযোগগুলি ১৫শ শতাব্দীর সময় চীন এবং ভারতীয় উপমহাদেশের সম্পর্কের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল।

সুলতানগণ

[সম্পাদনা]

মুবারক শাহী রাজবংশ (১৩৩৮–১৩৫২)

[সম্পাদনা]
নাম শাসনকাল নোট
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ ১৩৩৮–১৩৪৯ দিল্লির সালতানাত থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে সোনারগাঁওয়ে স্বাধীন রাজত্ব শুরু করেন। এবং বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের  ভিত্তি স্থাপন করেন।
ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহ ১৩৪৯–১৩৫২ ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের পুত্র এবং সোনারগাঁওয়ের স্বাধীন সুলতান।


আলাউদ্দীন আলী শাহ (১৩৩৮–১৩৪২)

নাম শাসনকাল নোট
আলাউদ্দীন আলী শাহ ১৩৩৮–১৩৪২ লখনৌতির স্বাধীন সুলতান। পূর্বে তিনি 'আলী মুবারক' নামে পরিচিত ছিলেন এবং কাদার খানের মৃত্যুর পর ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের পালক ভাই ছিলেন।


ইলিয়াস শাহি রাজবংশ (১৩৫২-১৪১৪)
নাম শাসনকাল নোট
শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২–১৩৫৮ সোনারগাঁও, সপ্তগ্রাম ও গৌড়ের সমন্বয়ে গঠিত বাংলার প্রথম স্বাধীন শাসক হন।
সিকান্দার শাহ ১৩৫৮–১৩৯০ তার উত্তরাধিকারী গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ কর্তৃক নিহত
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ১৩৯০–১৪১১
সাইফউদ্দিন হামজা শাহ ১৪১১–১৪১৩
মুহাম্মদ শাহ বিন হামজা শাহ ১৪১৩
শিহাবউদ্দিন বায়েজিদ শাহ ১৪১৩–১৪১৪
প্রথম আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ ১৪১৪

২০০৯ সালে বাংলাদেশে নাসিরউদ্দিন ইব্রাহিম শাহ নামের এক শাসকের একটি মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়, যা ৮১৮ হিজরি (প্রায় ১৪১৬ খ্রিস্টাব্দ) সালে নির্মিত। সম্ভবত তিনি সিংহাসনের একজন দাবিদার ছিলেন। ২০১৪ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলায় আরও এক শাসক সিরাজ-উদ্দিন সিকান্দার শাহ নামে পরিচিত ব্যক্তির একটি তারিখ-বিহীন মুদ্রা পাওয়া যায়। মো. শরীফ ইসলাম ধারণা করেন যে এই সিরাজউদ্দিনই সেই সিরাজউদ্দিন, যার উল্লেখ রিয়াজ-উস-সালাতিন-এ আছে এবং যিনি গিয়াসুদ্দিন আজম শাহের অধীনে বিচারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। [৬২]

রাজা গণেশের পরিবার (১৪১৪-১৪৩৫)
নাম শাসনকাল নোট
রাজা গণেশ ১৪১৪–১৪১৫
জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ ১৪১৫–১৪১৬ রাজা গণেশের পুত্র। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
রাজা গণেশ ১৪১৬–১৪১৮ দ্বিতীয় দফা
জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ ১৪১৮–১৪৩৩ দ্বিতীয় দফা
শামসউদ্দিন আহমাদ শাহ ১৪৩৩–১৪৩৫

দুজন স্বল্পস্থায়ী শাসক, কুতবুদ্দিন আজম শাহ এবং গিয়াসুদ্দিন নুসরত শাহ ১৪৩৪ (হিজরি ৮৩৭) সালে পূর্ব বাংলায় অল্প সময়ের জন্য শাসন করেছিলেন এবং মুয়াজ্জমাবাদ (আধুনিক সোনারগাঁও) থেকে মুদ্রা জারি করেছিলেন। সিরাজউদ্দিন সিকান্দার শাহ শুধু তার তারিখবিহীন মুদ্রার মাধ্যমেই পরিচিত; সম্ভবত তিনিও এই সময়কার শাসক ছিলেন। তাঁরা কেউই শামসুদ্দিন আহমদ শাহ বা ইলিয়াস শাহী বংশের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন কিনা তা জানা যায় না। [৬৩]

পুনপ্রতিষ্ঠিত ইলিয়াস শাহি রাজবংশ (১৪৩৫-১৪৮৭)
নাম শাসনকাল নোট
নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ ১৪৩৫–১৪৫৯
রুকনউদ্দিন বারবাক শাহ ১৪৫৯–১৪৭৪
শামসউদ্দিন ইউসুফ শাহ ১৪৭৪–১৪৮১
দ্বিতীয় সিকান্দার শাহ ১৪৮১
জালালউদ্দিন ফাতেহ শাহ ১৪৮১–১৪৮৭
হাবশি শাসন (১৪৮৭-১৪৯৪)
নাম শাসনকাল নোট
শাহজাদা বারবাক ১৪৮৭
সাইফউদ্দিন ফিরোজ শাহ ১৪৮৭–১৪৮৯
দ্বিতীয় মাহমুদ শাহ ১৪৮৯–১৪৯০
শামসউদ্দিন মোজাফফর শাহ ১৪৯০–১৪৯৪
হোসেন শাহি রাজবংশ (১৪৯৪-১৫৩৮)
নাম শাসনকাল নোট
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ১৪৯৪–১৫১৮
নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ ১৫১৮–১৫৩৩
দ্বিতীয় আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ ১৫৩৩
গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ ১৫৩৩–১৫৩৮
সুরি সাম্রাজ্যের অধীন বাংলার গভর্নর (১৫৩২-১৫৫৫)
নাম শাসনকাল নোট
শের শাহ ১৫৩২–১৫৩৮ ১৫৪০ সালে মোগলদের পরাজিত করে দিল্লীর শাসক হন।
খিজির খান ১৫৩৮–১৫৪১
কাজি ফাজিলাত ১৫৪১–১৫৪৫
মুহাম্মদ খান শুর ১৫৪৫–১৫৫৪
শাহবাজ খান ১৫৫৫
মুহাম্মদ শাহ রাজবংশ (১৫৫৪-১৫৬৪)
নাম শাসনকাল নোট
মুহাম্মদ খান শুর ১৫৫৪–১৫৫৫ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং শামসউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ নাম ধারণ করেন।
খিজির খান শুরি ১৫৫৫–১৫৬১
গিয়াসউদ্দিন জালাল শাহ ১৫৬১–১৫৬৪
তৃতীয় গিয়াসউদ্দিন শাহ ১৫৬৪
কররানী রাজবংশ (১৫৬৪-১৫৭৬)
নাম শাসনকাল নোট
তাজ খান কররানী ১৫৬৪–১৫৬৬
সুলায়মান খান কররানী ১৫৬৬–১৫৭২
বায়েজিদ খান কররানী ১৫৭২
দাউদ খান কররানী ১৫৭২–১৫৭৬

বারো ভূঁইয়া (স্বাধীন শাসকগণ)

[সম্পাদনা]

সুলতানি আমলের শেষভাগে মোঘল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলায় শক্তিশালী স্বাধীন জমিদার বা 'বারো ভূঁইয়া' শাসকদের উত্থান ঘটে। তাঁরা দিল্লির মোঘল সম্রাটদের অধীনতা অস্বীকার করে বাংলার স্বাধীনতা বজায় রেখেছিলেন।

নাম শাসনকাল নোট
ঈসা খাঁ ১৫৭৬-

১৫৯৯

বারো ভূঁইয়াদের প্রধান নেতা। তিনি মায়ের দিক থেকে বাংলার বিখ্যাত হোসেন শাহী রাজবংশের সদস্য ছিলেন। তিনি মুঘল আগ্রাসন শক্ত হাতে প্রতিহত করেন।
মুসা খাঁ ১৫৯৯–১৬১১ ঈসা খাঁর পুত্র। তিনি হোসেন শাহী বংশের রক্তধারা বহন করে মোঘলদের বিরুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই চালিয়ে যান।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

পাদটীকা

[সম্পাদনা]
  1. ↑ আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আলমের মূল চিত্রণ, ‘প্রগ্রেসিভ ত্রিপুরা’ গ্রন্থ থেকে:

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ Bhattacharyya, A. Chandra (১৯৩০)। Progressive Tripura। Bhattacharyya। পৃ. ২০।
  2. ↑ PASHCHIM BENGAL WEST BENGAL। Hubert de Vries, Hubert-Herald.nl। ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৬। the lion is the symbol of the Sultan of Bengal [সিংহ বাংলার সুলতানের প্রতীক]
  3. ↑ Simlandy, Sagar. Ghosh, Keshab Chandra. Colonial Origins of Modernity in India, "the lion, or at least the beast depicted, was meant to be the symbol of the Bengal Sultan", transl. "সিংহ, বা অন্ততপক্ষে যে প্রাণীটি চিত্রিত করা হয়েছে, সেটি বাংলার সুলতানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো", BFC Publications, ISBN: 9789356324282, p5–6, 2022.
  4. ↑ হেলাল উদ্দিন আহমেদ (২০১২)। "ইতিহাস"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  5. ↑ Wink, André (২০০৩)। Indo-Islamic society: 14th – 15th centuries (ইংরেজি ভাষায়)। BRILL। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০০৪১৩৫৬১১।
  6. ↑ Uhlig, Siegbert (২০০৩)। Encyclopaedia Aethiopica। পৃ. ১৫১।
  7. ↑ Embree, Ainslie (১৯৮৮)। Encyclopedia of Asian history। Asia Society। পৃ. ১৪৯।
  8. ↑ Wink, André (১৯৯১)। Indo-Islamic society: 14th – 15th centuries (ইংরেজি ভাষায়)। BRILL। আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪১৩৫৬১১।
  9. ↑ Bhattacharyya, A. Chandra, Progressive Tripura, p20, 1930.
  10. ↑ "BENGAL – Encyclopaedia Iranica"। www.iranicaonline.org। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯।
  11. ↑ Lewis, David (৩১ অক্টোবর ২০১১)। Bangladesh: Politics, Economy and Civil Society (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। পৃ. ৪৪–৪৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৯-৫০২৫৭-৩।
  12. ↑ মোঃ আখতারুজ্জামান (২০১২)। "টাকশাল, মধ্যযুগীয়"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  13. ↑ Ooi, Keat Gin (২০০৪)। Southeast Asia: A Historical Encyclopedia, from Angkor Wat to East Timor (ইংরেজি ভাষায়)। ABC-CLIO। পৃ. ১৭১। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৭৬০৭-৭৭০-২।
  14. 1 2 3 Eaton, Richard M. (৩১ জুলাই ১৯৯৬)। The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204–1760 (ইংরেজি ভাষায়)। University of California Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২০৫০৭-৯।
  15. ↑ Hammer, Joshua। "The Hidden City of Myanmar"। Smithsonian Magazine (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২০।
  16. ↑ Hasan, Sayed Mahmudul (১৯৮৭)। Muslim monuments of Bangladesh (ইংরেজি ভাষায়)। Islamic Foundation Bangladesh।
  17. ↑ Population Census of Bangladesh, 1974: District census report (ইংরেজি ভাষায়)। ঢাকা: Bangladesh Bureau of Statistics, Statistics Division, Ministry of Planning, Government of the People's Republic of Bangladesh। ১৯৭৯।
  18. ↑ তত্ত্বনিধি, অচ্যুতচরণ চৌধুরী (২০০২)। শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত। পৃ. ৪৮৪।
  19. ↑ Sylhet: History and Heritage (ইংরেজি ভাষায়)। বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি। ১ জানুয়ারি ১৯৯৯। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৩১-০৪৭৮-৬।
  20. ↑ Hasan, Perween. (২০০৭)। Sultans and mosques : the early Muslim architecture of Bangladesh। London: I.B. Tauris। পৃ. ১৬-। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৫১১-৩৮১-০। ওসিএলসি 72868799।
  21. ↑ Mukherjee, Rila (২০১১)। Pelagic Passageways: The Northern Bay of Bengal Before Colonialism (ইংরেজি ভাষায়)। Primus Books। পৃ. ৩৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮০৬০৭-২০-৭।
  22. 1 2 3 সালেহ উদ্দীন খান এবং সৈয়দ ওয়াহেদুজ্জামান (২০১২)। "সামরিক বাহিনী"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  23. ↑ Chakrabarti, Kunal (২০১৩)। Historical dictionary of the Bengalis। Shubhra Chakrabarti। Lanham [Maryland]। পৃ. ১২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১০৮-৮০২৪-৫। ওসিএলসি 861692768।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  24. ↑ Eaton, Richard Maxwell (১৯৯৩)। The rise of Islam and the Bengal frontier, 1204–1760। Berkeley। পৃ. ৫৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-৯১৭৭৭-৪। ওসিএলসি 43476319।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  25. ↑ Hasan, Perween (২০০৭)। Sultans and mosques : the early Muslim architecture of Bangladesh। London: I.B. Tauris। পৃ. ১৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৫১১-৩৮১-০। ওসিএলসি 72868799।
  26. ↑ "BENGAL"। Encyclopaedia Iranica। ৩ জানুয়ারি ২০১৮। ৩ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২০।{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক)
  27. ↑ Munro, John H. (৬ অক্টোবর ২০১৫)। Money in the Pre-Industrial World: Bullion, Debasements and Coin Substitutes (ইংরেজি ভাষায়)। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩১৭-৩২১৯১-০।
  28. ↑ শিরীন আখতার (২০১২)। "তোমে পিরে"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  29. ↑ অনিরুদ্ধ রায় (২০১২)। "বারবোসা, দুয়ার্তে"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  30. 1 2 Habib, Irfan (২০১১)। Economic History of Medieval India, 1200–1500 (ইংরেজি ভাষায়)। Pearson Education India। পৃ. ১৮৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৩১৭-২৭৯১-১।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  31. ↑ Mukherjee, Rila (২০১১)। Pelagic Passageways: The Northern Bay of Bengal Before Colonialism (ইংরেজি ভাষায়)। Primus Books। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮০৬০৭-২০-৭।
  32. ↑ Raychaudhuri, Tapan; Habib, Irfan; Kumar, Dharma; Desai, Meghnad (১৯৮২)। The Cambridge Economic History of India: Volume 1, C.1200-c.1750 (ইংরেজি ভাষায়)। CUP Archive। পৃ. ১৩০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-২২৬৯২-৯।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  33. ↑ Markovits, Claude (১ ফেব্রুয়ারি ২০০৪)। A History of Modern India, 1480–1950 (ইংরেজি ভাষায়)। Anthem Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৩৩১-০০৪-৪।
  34. ↑ আবু মূসা মোঃ আরিফ বিল্লাহ (২০১২)। "ফারসি"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  35. 1 2 Grabar, Oleg (১৯৯০)। Muqarnas: An Annual on Islamic Art and Architecture (ইংরেজি ভাষায়)। Brill Archive। পৃ. ৭২। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-০৯০৫০-৭।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  36. ↑ "ESKANDAR-NĀMA – Encyclopaedia Iranica"। www.iranicaonline.org। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২০।
  37. ↑ "Bar chart race: the most populous cities through time"। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  38. ↑ Kapadia, Aparna। "Gujarat's medieval cities were once the biggest in the world – as a viral video reminds us"। Scroll.in (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০২০।
  39. ↑ "World Urbanization Prospects – Population Division – United Nations"। population.un.org। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০২০।
  40. ↑ অনিরুদ্ধ রায় (২০১২)। "গৌড়, নগর"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  41. 1 2 Grabar, Oleg (১৯৯০)। Muqarnas: An Annual on Islamic Art and Architecture (ইংরেজি ভাষায়)। Brill Archive। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-০৯০৫০-৭।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  42. ↑ "Badshah-ka Takth and the gem of Bengal, Kusumba Mosque"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
  43. ↑ Centre, UNESCO World Heritage। "Historic Mosque City of Bagerhat"। UNESCO World Heritage Centre (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
  44. ↑ "Lost Myanmar Empire Is Stage for Modern Violence"। National Geographic News (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
  45. ↑ আসমা সিরাজউদ্দিন (২০১২)। "সমাধিসৌধ স্থাপত্য"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  46. ↑ Raychaudhuri, Tapan., Habib, Irfan, 1931-, Dharma Kumar., Desai, Meghnad. (১৯৮২–১৯৮৩)। The Cambridge economic history of India। Cambridge [England]: Cambridge University Press। আইএসবিএন ০-৫২১-২২৬৯২-৯। ওসিএলসি 6487837।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: তারিখ বিন্যাস (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  47. ↑ অনিরুদ্ধ রায় (২০১২)। "পর্তুগিজ, জাতি"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  48. ↑ অনিরুদ্ধ রায় (২০১২)। "কন্টি, নিকল দ্য"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  49. ↑ অনিরুদ্ধ রায় (২০১২)। "ফ্রেডারিক, সিজার"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  50. ↑ আবদুল করিম (২০১২)। "গিয়াসিয়া মাদ্রাসা"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  51. ↑ আবু তাহের (২০১২)। "জালালুদ্দীন মুহম্মদ শাহ"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
  52. 1 2 Sobania, N. W. (২০০৩)। Culture and Customs of Kenya (ইংরেজি ভাষায়)। Greenwood Publishing Group। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩১৩-৩১৪৮৬-৫।
  53. ↑ Ma, Lin; Brakel, Jaap van (২৫ মার্চ ২০১৬)। Fundamentals of Comparative and Intercultural Philosophy (ইংরেজি ভাষায়)। SUNY Press। পৃ. ১৩৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৩৮৪-৬০১৭-৮।
  54. ↑ The Cambridge economic history of India। Raychaudhuri, Tapan., Habib, Irfan, 1931-, Dharma Kumar., Desai, Meghnad.। Cambridge [England]: Cambridge University Press। ১৯৮২–১৯৮৩। পৃ. ১৩০। আইএসবিএন ০-৫২১-২২৬৯২-৯। ওসিএলসি 6487837।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অন্যান্য (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: তারিখ বিন্যাস (লিঙ্ক)
  55. ↑ Topich, William J.; Leitich, Keith A. (৯ জানুয়ারি ২০১৩)। The History of Myanmar (ইংরেজি ভাষায়)। ABC-CLIO। পৃ. ২০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩১৩-৩৫৭২৫-১।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  56. ↑ Ptak, Roderich (১৯৯৫)। "Trade and Diplomacy in India-China Relations: A Study of Bengal During the Fifteenth Century. By Haraprasad Ray. pp. ix, 221, 3 maps. New Delhi, Radiant Publishers; London, Sangam Books, 1993. Rs 200."। Journal of the Royal Asiatic Society (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ (2): ৩০০–৩০৩। ডিওআই:10.1017/S1356186300015637। আইএসএসএন 1474-0591।{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  57. ↑ Nehru, Jawaharlal (১৯৮৫)। The Discovery of India (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। পৃ. ১৯৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬২৩৫৯-৮।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  58. ↑ India and China: Interactions through Buddhism and Diplomacy: A Collection of Essays by Professor Prabodh Chandra Bagchi (ইংরেজি ভাষায়)। Anthem Press। ১ অক্টোবর ২০১১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৫৭২৮-৮২১-৯।
  59. ↑ Church, Sally K. (২০০৪)। "The Giraffe of Bengal: A Medieval Encounter in Ming China"। The Medieval History Journal (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৭ (1): ১–৩৭। ডিওআই:10.1177/097194580400700101। আইএসএসএন 0971-9458।{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  60. ↑ Biedermann, Zoltán; Gerritsen, Anne; Riello, Giorgio (২৮ ডিসেম্বর ২০১৭)। Global Gifts: The Material Culture of Diplomacy in Early Modern Eurasia (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। পৃ. ১৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১০৮-৪১৫৫০-৭।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  61. ↑ Elizalde, María Dolores; Jianlang, Wang (৬ নভেম্বর ২০১৭)। China's Development from a Global Perspective (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge Scholars Publishing। পৃ. ৭০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫২৭৫-০৪১৭-২।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  62. ↑ Nasir N, Islam MS (2014) Siraj al-Din ‘Sikandar’ (?) Shah – a new ruler of the Bengal Sultanate. J Orient Numismat Soc 220:39–40
  63. ↑ Nasir N, Islam MS (2014) Siraj al-Din ‘Sikandar’ (?) Shah – a new ruler of the Bengal Sultanate. J Orient Numismat Soc 220:39–40

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • আহমদ, ওয়াকিল। মুসলিম বাংলায় বিদেশি পর্যটক। ঢাকা:নওরোজ কিতাবিস্থান ১৯৬৮
  • ইসলাম, সিরাজুল (সম্পাদিত)। বাংলাদেশের ইতিহাস (১৭৫৭-১৯৭১),দ্বিতীয় খন্ড: অর্থনৈতিক ইতিহাস। ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি, ১৯৯৩।
  • করিম, আব্দুল। মুর্শিদ কুলি খান ও তার সময় ঢাকা, ২০১১
  • করিম, আব্দুল। মুঘল রাজধানী ঢাকা। ঢাকা: বাংলা একাডেমি, ২০০৩
  • চক্রবর্তী, মুকুন্দরাম। চন্ডীকাব্য। শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৫৩।
  • চক্রবর্তী, রজনীকান্ত। গৌড়ের ইতিহাস, অখণ্ড। ঢাকা: দিব্য প্রকাশন, ২০১৯।
  • তরফদার, মমতাজুর রহমান। ইতিহাস ও ঐতিহাসিক। ঢাকা: বাংলা একাডেমি ১৯৯৫।
  • দত্ত, নারায়ণ। জন কোম্পানির বাঙ্গালি কর্মচারী। কলকাতা: নবপত্র প্রকাশন, ১৯৭৩।
  • ভদ্র, গৌতম। মুঘলযুগে কৃষি অর্থনীতি ও কৃষক বিদ্রোহ। কলকাতা: সুবর্ণরেখা, ২০১৯।
  • মওদুদ, আব্দুল। মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশ: সংস্কৃতির রূপান্তর। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৮২।
  • মামুন, সুমাইয়া। “বঙ্গীয় বদ্বীপে প্রকৃতির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পিত দুর্যোগের কারণ।” রাষ্ট্রচিন্তা ১০ (অক্টোবর-২০২২): ১৬।
  • মিত্র, সুধীর কুমার। হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ, প্রথম খণ্ড। কলকাতা: মিত্রানী প্রকাশন, ১৯৬৪ ।
  • মুখোপাধ্যায়, সুখময়। বাংলার ইতিহাসের দুশো বছর স্বাধীন সুলতানদের আমল (১৩৩৮-১৫৩৮)। ঢাকা: দিব্য প্রকাশন, ২০১৮।
  • মুখোপাধ্যায়, সুবোধ কুমার। প্রাক পলাশী বাংলা (১৭০০-১৭৫৭)। কলকাতা: কেপি বাগচী অ্যান্ড কোম্পানি, ১৯৮২।
  • রহিম, এম এ। বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস। ঢাকা: বাংলা একাডেমি, ১৯৮২।
  • রহিম, এম এ। বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস, ২য় খণ্ড। ঢাকা: বাংলা একাডেমি, ১৯৮২।
  • রায়, অনিরুদ্ধ। মধ্যযুগের ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস। কলকাতা: মিত্রম, ২০১৮।
  • রায়, অনিরুদ্ধ। মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস: সুলতানি আমল। কলকাতা: ওরিয়েন্ট ব্ল্যাকসোয়ান, ২০১৯।
  • শাহনাওয়াজ, এ কে এম। মুদ্রায় ও শিলালিপিতে মধ্যযুগের বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি। ঢাকা: নভেল পাবলিশিং হাউজ, ২০১৮।
  • হাবিব, ইরফান। ব্রিটিশ শাসনের প্রথম পর্বে ভারতের অর্থনীতি (১৭৫৭-১৮৫৭)। কলকাতা: কে দি বাগচী অ্যান্ড কোম্পানি, ২০১৯।
  • হাবিব, ইরফান। মুঘল ভারতের কৃষিব্যবস্থা (১৫৫৬-১৭০৭)। কলকাতা: কে পি বাগচী অ্যান্ড কোম্পানি, ২০১৯।
  • Ali, M. Mohar, History of The Muslim Bengal, Vol IB, Dhaka: Islamic Foundation Bangladesh, 2003.