অভিসারী বিবর্তন
অভিসারী বিবর্তন (Convergent evolution) হল একটি প্রক্রিয়া যেখানে বিবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির জীবেরা একরকম
পরিবেশে বাস করতে করতে একধরনের মিলিত বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। তারা একে অপরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় না হলেও পরিবেশের চাপের কারণে একরকম বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়।
| দুটি রসালো উদ্ভিদের গণ – Euphorbia (বাঁদিকে) ও Astrophytum (ডানদিকে)। যদিও এরা ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নয়, তবুও অভিসারী বিবর্তনের ফলে তারা অনুরূপ দেহ-আকৃতি অর্জন করেছে। | |
অভিসারী বিবর্তন ঘটে সাধারণত প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে। যখন আলাদা প্রজাতির প্রাণীরা একই ধরনের পরিবেশে বসবাস করে এবং একই রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন তাদের মধ্যে একই ধরনের সমাধান বা বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
এটি সমান্তরাল বিবর্তন (parallel evolution)-এর থেকে কিছুটা আলাদা। সমান্তরাল বিবর্তনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত প্রজাতিগুলো একসাথে একই ধরনের বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, কারণ তাদের একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থাকে। যখন দুটি প্রজাতির মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য একই রকম দেখা যায়, এবং যদি জানা যায় যে তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যেও সেই বৈশিষ্ট্য ছিল, তাহলে একে বলা হয় সমান্তরাল বিবর্তন। আর যদি পূর্বপুরুষদের মধ্যে সেই বৈশিষ্ট্য ছিল না, তাহলে একে বলা হয় অভিসারী বিবর্তন। তবে এই শর্তগুলো আসলে মাত্রার পার্থক্য মাত্র, কারণ সব জীবই কোনো না কোনো পর্যায়ে সাধারণ পূর্বপুরুষের সঙ্গে যুক্ত। এই কারণে এই পার্থক্যটি আদৌ উপযোগী কি না তা নিয়ে মতভেদ আছে।[১][২]
উদাহরণ
[সম্পাদনা]নিম্নে কিছু অভিসারী বিবর্তনের উদাহরণ দেওয়া হলো:
- পাখি, বাদুড় এবং পোকা – তিনটি প্রাণীই ডানা ব্যবহার করে উড়ে বেড়াতে পারে, কিন্তু তাদের ডানার গঠন ও উৎপত্তি আলাদা।
- অক্টোপাস এবং মানুষ – দুইজনেরই জটিল ক্যামেরা-সদৃশ চোখ আছে, কিন্তু তারা ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নয়।
- ডলফিন (স্তন্যপায়ী) এবং হাঙর (মাছ) – দুইজনেরই শরীরের আকৃতি ও পাখনা প্রায় একরকম, কিন্তু তারা ভিন্ন শ্রেণির প্রাণী।
- সাগর সাপ এবং উগার – দুটিরই শরীর লম্বা ও সর্পিল, কিন্তু এরা একে অপরের আত্মীয় নয়।
- বিলুপ্ত বিভিন্ন প্রাণীতে দেখা যায় স্যাবার দাঁত (সামনের বড় দাঁত)
- স্কুইড এবং মানুষের চোখ – দুইজনের চোখে ক্যামেরার মতো গঠন আছে, কিন্তু আলাদা বিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত।
ব্যাখ্যা
[সম্পাদনা]অভিসারী বিবর্তনের মাধ্যমে বোঝা যায়, বিবর্তন একটি ভবিষ্যদ্বাণীকৃত প্রক্রিয়া নয়, বরং পরিবেশের চাপে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে, এমনকি আলাদা প্রজাতির মধ্যেও। এটি জীববিজ্ঞানে বিবর্তনের প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
তত্ত্ব অনুযায়ী পার্থক্য
[সম্পাদনা]| ধরণ | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
|---|---|---|
| অভিসারী বিবর্তন | ভিন্ন প্রজাতির মাঝে মিলিত বৈশিষ্ট্য তৈরি | পাখি ও বাদুড়ের ডানা |
| সমান্তরাল বিবর্তন | ঘনিষ্ঠ প্রজাতির মাঝে এক ধরনের বৈশিষ্ট্য তৈরি | ক্যাঙ্গারু ও ওয়ালাবির লাফানোর কৌশল |
অপসারী ও অভিসারী বিবর্তনের পার্থক্য
[সম্পাদনা]- অপসারী বিবর্তনে একটি পূর্বপুরুষ থেকে একাধিক ভিন্ন প্রজাতি তৈরি হয়।
- অভিসারী বিবর্তনে আলাদা পূর্বপুরুষ থেকে উৎপন্ন প্রাণীরা একরকম পরিবেশে অভিযোজিত হয়ে একই ধরনের বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।
সম্পর্কিত পৃষ্ঠা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Arendt, Jeff; Reznick, David (১ জানুয়ারি ২০০৮)। "Convergence and parallelism reconsidered: what have we learned about the genetics of adaptation?"। Trends in Ecology & Evolution (English ভাষায়)। ২৩ (1): ২৬–৩২। ডিওআই:10.1016/j.tree.2007.09.011। আইএসএসএন 0169-5347। পিএমআইডি 18022278।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ Pearce, Trevor। "Convergence and Parallelism in Evolution: A Neo-Gouldian Account"। The British Journal for the Philosophy of Science। ৬৩ (2): ৪২৯–৪৪৮। ডিওআই:10.1093/bjps/axr046। আইএসএসএন 0007-0882।